পঞ্চগড়ে চা বাগানে বাড়ছে মিশ্র ফলের চাষ
উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ের সমতলের চা বাগানগুলোতে বাড়ছে মিশ্র ফলের চাষ। এক সময়ের চা উৎপাদনের জন্য পরিচিত এই অঞ্চল এখন রূপ নিচ্ছে অর্গানিক ফল চাষে। একই জমিতে চাষ হচ্ছে আম, লটকন, মাল্টা, সুপারি, পান এবং সবজি।
চাষিরা বলছেন, এক জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের ফলে দ্বিগুণ লাভ করছেন তারা। ফলন যেমন ভালো হচ্ছে, তেমনি বাজারে অর্গানিক ফলের চাহিদাও বাড়ছে। ফলে লাভজনক বাণিজ্যিক কৃষির দিকে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন জেলার অনেক কৃষক।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বিল্লাভিটা এলাকার আদর্শ চাষি কাজী আনিসুর রহমান জানান, তিনিই প্রথম বড় পরিসরে চা বাগানে আম চাষ শুরু করেন। তার সফলতা দেখে আশপাশের অনেক চা চাষিই এখন একই পদ্ধতিতে মিশ্র ফল চাষ শুরু করেছেন। বর্তমানে জেলার প্রতিটি চা বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন জাতের আম, যার মধ্যে রয়েছে হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগোসহ নানা জাত।
জানা যায়, চাষিরা মৌসুমের শুরু থেকেই গাছে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার শুরু করেন। প্রতিটি গাছে ঝোলানো হয় সেক্স ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ ফাঁদসহ বিভিন্ন অর্গানিক উপকরণ। এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত আম বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে, কারণ ক্রেতাদের মধ্যে অর্গানিক ফলের প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
চাষিরা জানান, গাছ থেকে আম সংগ্রহের পর ছায়াযুক্ত স্থানে ফ্যানের বাতাসে ঠান্ডা করা হয়। তারপর তা পাকলে প্যাকেটজাত করে জেলা ও দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে, এমনকি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের সফল চাষি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তিনি প্রায় ২০ বিঘা জমিতে চা ও বিভিন্ন ফলের চাষ করছেন। আম, লটকন, সুপারি, পান, লেবু থেকে শুরু করে সবজি পর্যন্ত নানা ফসল উৎপাদন করছেন তিনি। এ বছর তার লটকন বাগানের ৫০টি গাছ থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার লটকন বিক্রির আশা করছেন।
আবু বক্কর আরও জানান, কৃষির মধ্যে যে রোমাঞ্চ রয়েছে তা পৃথিবীর আর কোনো পেশায় নেই। একজন কৃষক নিজের ও দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারে, যদি সে মননশীল হয়। ছয় সন্তানের জনক আবু বক্কর তার সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন, আর কৃষিকে বেছে নিয়েছেন অবসর জীবনের সঙ্গী হিসেবে।
পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন জানান, কৃষকদের প্রকল্পের আওতায় এনে বিষমুক্ত অর্গানিক আম উৎপাদনে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে আম লটকনসহ বিভিন্ন ফল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। তবে অর্গানিক আমকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য সৃষ্টির পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।