১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
উদ্যোক্তা

মরুর বুকে সফল কৃষি উদ্যোক্তা বাংলাদেশি কামাল

যুগান্তরের প্রতিবেদন ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ২৬ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
মরুর বুকে সফল কৃষি উদ্যোক্তা বাংলাদেশি কামাল
সৌদি আরবের মরুর বুকে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কামাল উদ্দিন নামের এক কৃষি উদ্যোক্তা। রাজধানী রিয়াদের উপকণ্ঠে হাফিরাত নিসা নামক স্থানে বিশাল শাক সবজির বাগান করে সফলতা অর্জন করেছেন তিনি। 
শুধু তাই নয়, সেখানে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যুদ্ধার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বিপাকে পড়া বাংলাদেশিকে তিনি কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন। এদিকে এক সময়ের ক্ষুদ্র কৃষি শ্রমিক কামাল উদ্দিনের সফলতার গল্প এখন সব প্রবাসীদের মুখে মুখে। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার গড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন। ১৯৯৮ সালে কৃষি শ্রমিক হিসেবে সৌদি আরবের রিয়াদে যান। শুরুতে ৫শ রিয়াল মাসিক বেতনে চাকরি করেন। তিন বছর সৌদি নাগরিকের অধীনে চাকরি করার পর একপর্যায়ে নিজেই কৃষিপণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নেন। 
পরে রাজধানী রিয়াদ থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরত্বের হাফিরাত নিসা নামক স্থানে প্রায় দুই কিলোমিটার আয়তনের একটি কৃষি ফার্ম (মাজরা) ভাড়া নেন। শুরু করেন নানা প্রজাতির শাক সবজি। 
ওই ফার্মে বাংলাদেশি শ্রমিকরা উৎপাদন করছেন বিভিন্ন প্রজাতির বেগুন, কাঁচা মরিচ, করলা, টমেটো, কুচা, ভেন্ডি, লাউ, মিষ্টি কুমড়াসহ সব ধরনের সবজি। সেখানে থাকা খাবারসহ নিরাপদ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশির। 
সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি কৃষি শ্রমিক রমজান আলী, কৃষি উদ্যোক্তা কামাল উদ্দিন একজন মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ। তিনি আমাদের এখানে কর্মসংস্থানসহ নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করেছেন। এখানে নিজের বাড়ির মতো করে থাকতে পারি। 
অপর শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখানে থাকা খাওয়া এবং যথাসময়ে বেতন দিচ্ছেন আমাদের মালিক কামাল উদ্দিন। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে থাকি এবং দেশে রেমিটেন্স পাঠাই। 
সেখানে কর্মরত সজিব, সুজন, তারা মিয়া, সাজ্জাদ হোসেনসহ অন্যান্য শ্রমিকরা বলেন, বিদেশে আছি বলে মনে হয় না। আমরা অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি এই মাজরায় কাজ করছি। মাজরার উদ্যোক্তা আমাদের থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করেছেন। 

রিয়াদের ব্যবসায়ী মো. আনিসুর রহমান বলেন, কৃষি উদ্যোক্তা কামাল উদ্দিন অর্ধশত রেমিটেন্স যোদ্ধার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। উনার সফলতার গল্প এখন স্থানীয় প্রবাসীদের মুখে মুখে। উনি আমাদের কমিউনিটির একজন আইডল। 
কৃষি উদ্যোক্তা কামাল উদ্দিন বলেন, একসময় ক্ষুদ্র শ্রমিক হিসেবে সৌদি আরবে এসেছিলাম। অনেক চেষ্টায় এবং আল্লাহর রহমতে আমি একটি বিশাল মাজরা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। আমার এখানে অর্ধশত শ্রমিক কাজ করছে। পর্যায়ক্রমে আমি আরও অনেক বাংলাদেশির কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। 

যুগান্তরের প্রতিবেদন

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।