তেজপাতা চাষে রংপুরে কৃষকদের বাৎসরিক আয় ছাড়াল ৫ কোটি টাকা
উৎপাদিত তেজপাতা বিক্রির জন্য স্থানীয় কৃষকদের বাড়তি কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয় না। দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি খাদ্যপণ্য ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি মাঠপর্যায় থেকে এসব পাতা সংগ্রহ করছে। ইউনানি গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, প্রাণ, পুষ্টি ও তীরসহ বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে নিয়মিত পাতা কিনছে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সৌদি আরব ও দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এই অঞ্চলের তেজপাতা রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, রংপুর অঞ্চলে বর্তমানে একশ হেক্টরেরও বেশি জমিতে তেজপাতার আবাদ হচ্ছে। এই খাত থেকে প্রতিবছর কৃষকদের সম্মিলিত আয় দাঁড়াচ্ছে পাঁচ কোটি টাকার বেশি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এক হেক্টর জমিতে তেজপাতা আবাদের জন্য এক হাজার একশ থেকে এক হাজার দুইশটি চারার প্রয়োজন পড়ে। হেক্টরপ্রতি প্রাথমিক উৎপাদন খরচ হয় এক লাখ পাঁচ হাজার থেকে এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিপরীতে এক হেক্টর বাগান থেকে প্রায় ১৭ টন কাঁচা পাতা উৎপাদিত হয়, যা শুকানোর পর দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে চার টনে। এই পরিমাণ শুকনা পাতা বিক্রি করে কৃষকের মোট আয় আসে তিন লাখ ২০ হাজার থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ফলে সব খরচ বাদ দিয়ে চাষিদের হেক্টরপ্রতি নিট মুনাফা থাকে এক লাখ ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকার কাছাকাছি।
রংপুর অঞ্চলের বেলে-দোআঁশ ও দোআঁশ মাটি তেজপাতা চাষের জন্য প্রাকৃতিকভাবেই বিশেষ উপযোগী। ফলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় এই মসলা আবাদ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র- https://www.dinajpurtv.com/
ডেস্ক রিপোর্ট
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।