বন্যাদূর্গত অঞ্চলে ধানের চারা প্রদানের উদ্যোগ বাকৃবির
বর্তমানে দেশের একটি বিশাল অংশ ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত। এবছর বন্যা এমন সময় হয়েছে যখন সম্প্রতি রোপণকৃত সব আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যাদূর্গত এই বৃহৎ অঞ্চলে আমন ধানই প্রধান ফসল। আমন মৌসুমে ধান তুলতে না পারলে এ অঞ্চলের কৃষকরা ব্যাপক খাদ্যাভাবের সম্মুখীন হবে। এই খাদ্যাভাব আমাদের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।
এখনো আমন মৌসুমের ধানের চারা উৎপাদন সম্ভব। অতি দ্রুত বীজতলা প্রস্তুত করে ২০ দিনের মধ্যে ধানের চারা উৎপাদন করে কৃষকদেরকে সরবরাহ করতে পারলে কৃষক লাভবান হবে, সারা দেশবাসী লাভবান হবে। পাশাপাশি দূর্দশাগ্রস্ত এই কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশক ও নগদ অর্থও দিতে হবে।
বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু উদ্যমী ছাত্র-ছাত্রীর নেতৃত্বে, বেশ কয়েকজন প্রফেসর, কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষি উদ্যোক্তা, কর্পোরেট ব্যক্তির পরামর্শক্রমে Agri Students Alliance গঠন করা হয়। তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বাকৃবি ক্যাম্পাসে এবং নোয়াখালীতে ৫ একর জমিতে আমন ধানের বীজতলা তৈরীর কাজ শুরু করা হয়েছে, পাশাপাশি কৃষকদেরকে আসন্ন রবি মৌসুমে সবজির চারা উৎপাদন করে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়াও কৃষকদের কৃষি উপকরণ ও নগদ অর্থ সাহায্যের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। প্রায় ১০০ জনের মত মানবিক ভাবনার মানুষ ভার্চুয়ালি একসাথে যুক্ত হয়েছিল। দীর্ঘ দুই ঘন্টা আলোচনা শেষে তাঁরা বেশ কিছু সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।
অতি দ্রুত বাকৃবি ক্যম্পাসে ১ একর ও নোয়াখালীতে ৩ একর জমিতে ধানের চারা প্রস্তুত করা। এ ব্যাপারে ট্যাকনিক্যাল হেল্প করবেন বাকৃবির এগ্রোনমি ডিপার্টমেন্টের মশিউর স্যার, চয়ন স্যার, জেনেটিকসের রাফি স্যার। তাদের অন্তত ১০০০ কেজি বীজ লাগবে। বীজের ব্যাপারে সহযোগীতা করবে আল ইমরান (বায়ার ক্রপ)। পাশাপাশি নিজেরাও বিভিন্ন সীড কোম্পানীতে যোগাযোগ করে ধান ও বিভিন্ন সবজির বীজ সংগ্রহের চেষ্টা করা। কৃষকদেরকে চারার পাশাপাশি সার, বীজ, নগদ অর্থ দেয়ার চেস্টা করা। সেজন্য ফান্ড কালেকশন করতে হবে। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রীরা নিজেরা প্লাস্টিক বোতল,ওয়ান টাইম কাপ ইত্যাদিতে সবজির চারা করবে। চারা বিতরনের সময় এগুলো তারা যথাসম্ভব একসাথে করে কৃষকদের দিবেন। এই পুরো প্রগ্রামটা মানবিক। কোন বিশ্ববিদ্যালয়, কোনো গ্রুপ, কোনো ক্লাস কাউকে সামনে রেখে বা কাউকে হেয় করে এখানে কিছু করা হবেনা। সবাই এক মনে মানুষের জন্যে ব্রত নিয়ে এগিয়ে আসবে।
এছাড়াও কৃষকদের কৃষি উপকরণ ও নগদ অর্থ সাহায্যের জন্য ফান্ড রেইজের বিস্তারিত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এই ব্যাপক কর্মযজ্ঞে সকলের সহযোগিতায় আমন ধানের চারা, সার, বীজ, কীটনাশক ও নগদ অর্থ দিয়ে কৃষকদের বাঁচাতে এগিয়ে আসার আহবান জানান তারা।
বিকাশঃ ০১৯১২১১৪২৮১ (প্রফেসর ড. মোঃ পারভেজ আনোয়ার চয়ন), নগদঃ ০১৭১২৪১২১৮৮ (মুখলেছুর রহমান মুকিত), রকেটঃ ০১৭১৪২৩৯৪৬৯৭ (ড. এ বি এম আরিফ হাসান খান রবিন), ব্যাংক একাউন্ট নংঃ ০১৪১১০১২৭৩৬৯০, খালিদ হাসান, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, বাকৃবি চত্বর, ময়মনসিংহ। টাকা প্রেরণের সময় রেফারেন্সে FLOOD লিখতে হবে ।
জমি, বীজ, সার, উপকরণ সহায়তা কিংবা যেকোনো সাজেশনের জন্য যোগাযোগঃ
ড. এ বি এম আরিফ হাসান খান রবিনঃ ০১৭১৪২৩৯৪৬৯,মুখলেছুর রহমান মুকিতঃ ০১৭১২৪১২১৮৮,আব্দুল্লাহ আল মুন্নাঃ ০১৭৫০৮৮২৮১৯,
বাকৃবি প্রতিনিধি:
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।