২২ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

কুমিল্লার পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যে বিশাল পার্থক্য

এগ্রিবার্তা ডেস্ক: ১৭ অক্টোবর ২০২৪ · ৭ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
কুমিল্লার পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যে বিশাল পার্থক্য

কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ কাঁচা সবজি বাজার হিসেবে পরিচিত, সেখানে ধনেপাতা ও কাঁচা মরিচের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই বাজারে প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় সবজি কেনাবেচা, যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সবজি সরবরাহ করা হয়। তবে, বাজারের পাইকারি ও খুচরা মূল্যের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।

আজ সকালে নিমসার বাজারে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও বেপারীরা তাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করেছেন। সৈয়দপুর এলাকার কৃষক মনির হোসেন, রহমত আলী ও মজিদ মিয়ার মতো অনেকে ধনেপাতা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে এবং কাঁচা মরিচ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। তবে, বাজারের আড়তদার মো. নজরুল মিয়া, ইকরাম মুন্সী, শামীম মিয়া এবং মোহাম্মদ আলীর মতো ব্যবসায়ীরা এই সবজিগুলো পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে ধনেপাতা ১০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।

বাজারের পাইকারি ও খুচরা মূল্যের ব্যবধান

বাজারের মূলস্থান থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা এলাকায় খুচরা বিক্রেতা নূর হোসেন ধনেপাতা বিক্রি করেছেন ৩০০ টাকা কেজি দরে এবং কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা কেজি দরে। নগরীর বিভিন্ন বাজারে একই ধরনের মূল্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। এর মধ্যে পেঁপে ৫০ টাকা কেজি, মিষ্টি কুমড়া ৮০ টাকা, লাউ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ফুলকপি ১৮০ টাকা, কাঁচা কলা হালি ৬০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা, সিম ২৬০ টাকা, এবং করল্লা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের পরিস্থিতি ও কৃষকদের মতামত

নিমসার বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সবজির দাম আকার ভেদে ভিন্ন হচ্ছে। বেগুন ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, করল্লা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ১৩০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা এবং সিম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে, পাইকারি বাজারে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, খুচরা বাজারে এসে তার পরিমাণ অনেক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।

নিমসার বাজারের এক ব্যবসায়ী মো. আবুল হাসেম মিয়া জানান, তিনি মিষ্টি কুমড়া নিয়ে এসেছেন এবং প্রথমে জমির বিঘা প্রতি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে জমি কিনেছেন। প্রথমে কিছুটা ক্ষতি হলেও বর্তমানে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী তিনি লাভের মুখ দেখছেন। এ বিষয়ে অন্যান্য পাইকারি ব্যবসায়ীরাও একই মন্তব্য করেছেন, যেমন মো. সুমন মিয়া, আব্দুর রহমান ও মো. শাহালম মিয়া। তারা জানান, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি সংগ্রহ করে আড়তদারদের কাছে সরবরাহ করা হয় এবং বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দাম নির্ধারিত হয়। তারা শুধু একটি নির্দিষ্ট লাভ রেখে সবজি বিক্রি করেন।

বাজার সিন্ডিকেটের প্রভাব

কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ, চকবাজার ও রানীর বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি বাজারে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে যা খুচরা ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করে। তারা সবজির দাম নির্ধারণ করে দেয়, ফলে খুচরা ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে বিক্রি করতে পারেন না। এই সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে বাজারে মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে এবং সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা প্রভাবিত হচ্ছে।

বাজার তদারকির অভাব ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের ভূমিকা

কুমিল্লা জেলার ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুল ইসলাম জানান, জেলার ১৭টি উপজেলায় তিনি একমাত্র কর্মকর্তা হিসেবে বাজার তদারকি করছেন। তবে, জনবল সংকটের কারণে সঠিকভাবে বাজার তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা বিভিন্ন কাঁচাবাজারে অভিযান পরিচালনা করেছেন এবং অযাচিত ও অতিরিক্ত দাম রাখার দায়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানা এবং সতর্ক করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তবে বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আরও তদারকি প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কুমিল্লার নিমসার বাজারে ধনেপাতা ও কাঁচা মরিচের মূল্য বৃদ্ধির ঘটনাটি শুধু একটি উদাহরণ নয়, এটি দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষি বাজারে চলমান অস্থিরতার প্রতিফলন। পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যে বিশাল পার্থক্যের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, যা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সরকারের কঠোর নজরদারি ও সিন্ডিকেটের প্রভাব হ্রাসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক:

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।