২২ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

কীটনাশক সিন্ডিকেট: কৃষকদের জিম্মি করছে ব্যবসায়ীরা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২ নভেম্বর ২০২৪ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
কীটনাশক সিন্ডিকেট: কৃষকদের জিম্মি করছে ব্যবসায়ীরা

কৃষকের ফসল সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত পেস্টিসাইড (বালাইনাশক) বর্তমানে সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু পেস্টিসাইড ব্যবসায়ী নেতারা এই পণ্যের দাম বাড়িয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং অসহায় কৃষকদের জিম্মি করছেন। তারা পেস্টিসাইডসংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য হয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কৃষকের স্বার্থবিরোধী নীতি তৈরি করে নিচ্ছেন, কিন্তু সেই নীতি পুরোপুরি মানছেন না।

রাজস্ব কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের পণ্য আমদানি করা হচ্ছে, যার ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে, এই সিন্ডিকেটে পেস্টিসাইড ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং ও কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও জড়িত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৭৫০টির মতো বেসরকারি পেস্টিসাইড কোম্পানিকে আমদানির জন্য প্রায় ১২ হাজার ব্র্যান্ড অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশে পেস্টিসাইডের বাজার প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার, যার ৯০ শতাংশ আমদানিনির্ভর এবং বাকি ১০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানির মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের ঠকানোর অভিযোগও উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘মানিক ২০ এসপি’ নামের বালাইনাশকটি বিদেশ থেকে প্রতি কেজি ৬৯৬ টাকায় কেনা হচ্ছে, কিন্তু কৃষকদের কাছে বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ২৪০ টাকায়। অন্য একটি বালাইনাশক ‘কারটাপ’ এক হাজার ২০ টাকায় কিনে বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৪০০ টাকায়।

বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশন নামের সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন এবং অসহায় কৃষকদের কাছ থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ শতাংশ মুনাফা নিচ্ছেন। এই সংগঠনের সভাপতি এম সাইদুজ্জামান দাবি করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে।

পেস্টিসাইড টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি কমিটি (পিটাক) সব নীতি নির্ধারণ করে থাকে এবং এর সদস্যরা সিন্ডিকেটে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে একই পেস্টিসাইডের দাম ভিন্ন হওয়ার কারণে দাম নির্ধারণে প্রস্তাব দেওয়া হলেও বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এর বিরোধিতা করেছেন।

গত সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সোসাইটির সদস্যরা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা সরকারের কাছে নিম্নমানের বালাইনাশক আমদানি রোধে কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন।

অবৈধ আমদানির কৌশলও তদন্ত করা হচ্ছে। জানা যায়, অনেক কোম্পানি রেজিস্টার্ড সোর্সের বাইরে থেকে অনুমোদনহীনভাবে পণ্য আমদানি করে আসছে। জুলাই মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নজরদারির ফলে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বালাইনাশক আটক হয়েছে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন বলেন, অবৈধ রাসায়নিক দ্রব্য বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংস করতে হবে। এসব নিম্নমানের বালাইনাশক কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

এম সাইদুজ্জামান বলেন, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত উৎসের বাইরে পেস্টিসাইড আমদানি করা ঠিক নয়, তবে খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে এটি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।