২২ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

ধানের দাম ১৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি উঠেছে

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৫ নভেম্বর ২০২৪ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
ধানের দাম ১৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি উঠেছে

ঠাকুরগাঁও শহরে আমন ধানের দাম মণপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খোলার দাবিতে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে শহরের চৌরাস্তায় বাংলাদেশ কৃষক সমিতির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সমাবেশের আগে কৃষক ও কৃষক সমিতির নেতারা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শহরের সাধারণ পাঠাগারের সামনে জড়ো হন। এরপর একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নেয়। সেখানে সংগঠনের নেতারা জাতীয় ও স্থানীয় কৃষকদের ১২ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন।

পরে মিছিল নিয়ে শহরের চৌরাস্তায় পৌঁছালে সেখানে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কৃষক সমিতির ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব আলীর সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন, সহসাধারণ সম্পাদক সুকান্ত সফি চৌধুরী এবং জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোর্তুজা আলম। এসময় জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েমও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

পথসভায় মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। দেশের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি কৃষির ওপর নির্ভর করে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে আমন ধান কিছুদিনের মধ্যেই কাটা শুরু হবে। প্রতিবছর সরকার ধানের দাম নির্ধারণ করলেও কৃষকরা লাভজনক দাম পান না। 

সাম্প্রতিক সময়ে সার, জ্বালানি তেল ও কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, কিন্তু তারা ফসল বিক্রির সময় ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। গত মৌসুমে সরকার আমন ধানের দাম মণপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করেছিল, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় যথেষ্ট নয়। তাই ধানের দাম কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, সরকারি গুদামে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা খুবই কম এবং সরকার প্রতিবছর ধান, মোটা চাল ও আতপ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করলেও এর সুফল কৃষকেরা পান না। বাধ্য হয়ে কৃষকেরা বাজারে সরকার–নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কমে ধান বিক্রি করেন, যা তাদের জন্য ক্ষতিকর। বক্তারা দাবি করেন, প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলতে হবে এবং ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। খাদ্যপণ্যের মজুত নিশ্চিত করতে প্রতি মৌসুমে অন্তত ৫০ লাখ টন ধান কেনার প্রয়োজন রয়েছে এবং খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যগুদাম ও সাইলো নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।