মৃত্তিকায় বৈষম্য বিরোধী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও গণবদলির অভিযোগ।
বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এর বর্তমান ডিজি মোঃ জালাল উদ্দীন যেন আর এক নতুন স্বৈরশাসক। আওয়ামী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ডিজি ক্ষমতায় আসার পরই আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গঠন করেন। এসব আওয়ামী পন্থী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মৃত্তিকার প্রধান কার্যালয়কে অনিয়ম ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেন। তার নের্তৃত্বে এই সিন্ডিকেট গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছেন। যার খবর ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তার এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির যারাই প্রতিবাদ করেছেন, তাঁদেরকে পদে পদে হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছে।
স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও ডিজি বিভিন্ন জায়গায় টাকা পয়সা খরচ করে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার এসব কর্মকান্ডের যারাই বিরোধিতা করেছেন তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিজি প্রধান কার্যালয়ে ড্রাইভার ও কর্মচারিদের সমন্বয়ে একটি রক্ষীবাহিনী গঠন করেছেন বলে জনশ্রুতি আছে। তার এই রক্ষীবাহিনী দ্বারাই ইতোমধ্যে বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তাদের হেনস্থা করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ডিজির এসব কর্মকান্ডের প্রত্যক্ষ মদদদাতা ও সহযোগী হলো, সয়েল সার্ভে এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট শাখার সিএসও মোঃ আবদুল হালিম (যিনি বিগত আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত, এসআরএসআরফ প্রকল্পের ডিপিডি ছিলেন), প্রধান কার্যালয়ের সিএসও আফম মঞ্জুরুল হক, ডিজির দপ্তরের সংযুক্ত কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান।
বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তাদের ব্যানারে একদল কর্মকর্তা ডিজির এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাঁদেরকে গণবদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নন-ক্যাডার অংশের সবচেয়ে সিনিয়র কর্মকর্তা ও বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দীর্ঘদিন যাবত বঞ্চিত ড. মোঃ আনিসুর রহমান, ডিরেক্টর এনালাইটিক্যাল সার্ভিসেস উইং, তাঁকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।
এছাড়াও ড. নুরুল হুদা আল মামুন, এসএসও, আইরিন সুলতানা, এসএসও, মোঃ ইশতিয়াক আহমেদ, এসও, মোঃ ফরহাদ হোসেন, এসও, মোঃ আবুল বাশার, এসও, মোঃ কায়েস মাহমুদ, এসও এদেরকে গণবদলী করেছেন। এসব কর্মকর্তা সবসময়ই ডিজির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, এই ফ্যাসিস্ট ডিজি বিগত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় ওনার কর্মকর্তাদের নিয়ে ৪ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে রাজপথে শান্তি সমাবেশ করেছিল। যার প্রেক্ষিতে সরকার পতনের পরে ওনার গ্রামের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা আগুন দেয়। এত কিছুর পরেও তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন।
তাই বৈষম্য বিরোধী সরকারের নিকট এই প্রতিষ্ঠানের নিপিড়ীত, বঞ্চিত, বৈষম্য বিরোধী কর্মকর্তারা আওয়ামী সরকারের দোসর এই ফ্যাসিস্ট ডিজির দ্রত অপসারণ দাবী করেছেন এবং কর্মকর্তাদের গণবদলী বাতিলের আবেদন করেছেন।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।