নাটোরে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন পানিফল চাষে
নাটোরের গ্রামাঞ্চলে একসময় জলমগ্ন জমিগুলো অব্যবহৃত ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেসব জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পানিফল চাষ শুরু হয়েছে। কৃষকরা এখন এই জলমগ্ন জমি থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
এছাড়া, এসব জমিতে দেশীয় মাছও পাওয়া যাচ্ছে। অনেক কৃষক পানিফল চাষের পাশাপাশি একই জমিতে মাছ চাষ করছেন, যা তাদের জন্য একটি বড় আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকরা মনে করছেন, কৃষি বিভাগ তাদের সহযোগিতা করলে পানিফল চাষ আরও লাভজনক হবে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আর্থিক উন্নয়নের জন্য পতিত জমি আর অব্যবহৃত রাখা যাবে না। সময়োপযোগী ফসল চাষের মাধ্যমে জমিগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার ১০ হেক্টর জলমগ্ন জমিতে পানিফল চাষ হয়েছে। সদর উপজেলা, নলডাঙ্গা, সিংড়া ও গুরদাসপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পানিফল চাষ হচ্ছে।
জানা যায়, জ্যৈষ্ঠ মাসে পানিফলের চারা রোপণ করা হয় এবং চার মাস পর ফল আসতে শুরু করে।
বর্তমানে প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় বাজারে পানিফল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে এবং শহরে ৮০ টাকা কেজি দরে।
সদর উপজেলার বরভিটা-দিয়ারভিটা গ্রামের কৃষক হজরত আলী জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে পানিফল চাষ করেছেন এবং স্থানীয় বাজারে পাইকারি বিক্রি করছেন। অন্যদিকে, মো. আসাদ জানান, তিনি বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ করছেন।
স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, পানিফল চাষের কারণে তাদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা প্রতিদিন কাজ করে ৫০০ টাকা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।
সিংড়া উপজেলার কৈগ্রামের কৃষক রইচ উদ্দিন প্রায় ৩০ বছর ধরে পানিফল চাষ করছেন এবং বর্তমানে তার সফলতা দেখে অনেকেই এই চাষে ঝুঁকছেন।
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ বলেন, পানিফল চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, পানিফল একটি অর্থকরী ফসল যা বাজারে ভালো দাম পায় এবং এর পুষ্টিগুণও রয়েছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।