২২ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

পাটচাষে লাভ কমছে: কৃষকের অভিযোগ!

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৭ নভেম্বর ২০২৪ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
পাটচাষে লাভ কমছে: কৃষকের অভিযোগ!

পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ার পর কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রংপুরে পাটের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে দামও বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহে এসব অঞ্চলের বাজারে পাটের দাম মণ প্রতি ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বাজারে পাট বিক্রি হচ্ছে ৩,২০০ থেকে ৩,৬০০ টাকায়।

তবে কৃষকরা এই দাম বৃদ্ধিতে খুশি নন। তারা মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে মূলত ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন। অধিকাংশ কৃষক আগেই উৎপাদিত পাট বিক্রি করে ফেলেছেন, যখন দাম ছিল দুই হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা।

লালমনিরহাটের বড়বাড়ী হাটের পাট ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন জানান, প্রায় এক মাস আগে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাট বিক্রি করেছেন। বর্তমানে কিছু কৃষকের ঘরে সামান্য পরিমাণ পাট সংরক্ষিত আছে। যারা পাট ঘরে রেখেছিলেন, তারা এখন বাড়তি দাম পাচ্ছেন।

কুড়িগ্রামের যাত্রাপুর হাটের মহাজন সুনীল চন্দ্র বলেন, পলিথিন নিষিদ্ধ হওয়ার পর বড় কোম্পানিগুলো বেশি দামে পাট কিনতে শুরু করেছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কোম্পানির কাছে পাট বিক্রি করছেন।

চর রাজিবপুর উপজেলার কৃষক নুরু মিয়া জানান, তিনি এ বছর ছয় বিঘা জমিতে ৪৯ মণ পাট উৎপাদন করেছেন এবং এক মাস আগে ৪৪ মণ পাট বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, “পাটচাষ এখন লাভজনক নয়; আমরা কেবল পাটকাঠির জন্য চাষ করি।”

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার কৃষক সন্তোষ চন্দ্র বর্মণ জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আট থেকে ১০ মণ পাট পাওয়া যায়, কিন্তু খরচের তুলনায় লাভ কম। এক যুগ আগে তিনি ১২ থেকে ১৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করতেন, এখন তিন থেকে চার বিঘা জমিতে চাষ করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর অঞ্চলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক পাট চাষ করেন। এ বছর কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর ও নীলফামারিতে মোট ৫০ হাজার ৮৪৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ৭৩৩ মেট্রিক টন পাট।

পাট উন্নয়ন অফিসার তৈয়বুর রহমান জানান, কৃষকদের একসঙ্গে সব পাট বিক্রি করতে নিরুৎসাহিত করা হয়। তবে অর্থের প্রয়োজনেই তারা সব পাট একসঙ্গে বিক্রি করেন। যারা কিছু পাট সংরক্ষণ করেছিলেন, তারা এখন বেশি দাম পাচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়লে ভবিষ্যতে কৃষকেরা লাভবান হবেন।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।