২১ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
ক্যাম্পাস

বাকৃবির শিক্ষকরা আলাদা ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১১ নভেম্বর ২০২৪ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
বাকৃবির শিক্ষকরা আলাদা ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উদ্যোগে ২০১৯ সালে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে গুচ্ছ পদ্ধতির সূচনা হয়। যদিও পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য এই পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছিল, তবে এতে বিতর্ক ও সমালোচনা বেশি হয়েছে। পাঁচটি ভর্তি পরীক্ষার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাকৃবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আসার পক্ষে মত প্রকাশ করছেন। দীর্ঘ আলোচনা-সমালোচনার পরও বিষয়টি কোনো সমাধানে পৌঁছায়নি। 

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন কাউন্সিলও গুচ্ছ থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রাব্বানী।

বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, “আমি কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে নই। আমাদের অবশ্যই গুচ্ছ থেকে বের হয়ে আসা উচিত, কারণ এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করছে।”

কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. পারভেজ আনোয়ার জানান, বাকৃবির ভর্তি পরীক্ষা আলাদা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “শুরু থেকেই আমাদের পরীক্ষা স্বচ্ছ ছিল এবং আমরা শুধুমাত্র সরকারি মুক্তিযোদ্ধা ও উপজাতি কোটাই মেনে চলেছি। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় আমাদের মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে।”

মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেন বলেন, “প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকা উচিত। একটি মেধাতালিকায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বাছাইয়ের পদ্ধতি আমি সমর্থন করি না।”

উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মো. বকুল আলী মন্তব্য করেন, “গুচ্ছ পদ্ধতির কারণে বাকৃবি তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে। একক ভর্তি পরীক্ষায় কোনো ভুল বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, কিন্তু গুচ্ছ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বারবার।”

ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী মো. ওমর ফারুক বলেন, “গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতির কারণে সেশনজট তৈরি হচ্ছে।”

কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থী সাদিয়া জাহান খুকি মনে করেন, “গুচ্ছে প্রশ্ন কাঠামোতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না বলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের যাচাইয়ের সুযোগ কমে আসছে।”

বাকৃবি ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রাব্বানী জানান, "আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে কৃষি গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে আসব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করছে। গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতিতে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং আমরা শিগগিরই অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল বসিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।"

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।