জামালপুরে গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা
যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদ-নদী বিধৌত জামালপুর জেলা। এক সময়ে এ জেলায় গম চাষের উর্বর ভূমি হিসেবে পরিচিত ছিল। নিকট অতীতে জামালপুরের মাঠের দিকে তাকালে দেখা যেতো দিগন্ত জোড়া গম ক্ষেত। ওই সময় গমই ছিল এ অঞ্চলের প্রধান খাদ্যশস্য। পতিত, বালু ও পলি মাটিসহ সকল জমিতে কম খরচে লাভজনক ফসল হিসেবে ভুট্টা চাষের আর্বিভাব ঘটায় দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান ফসল গম চাষ।
জানা গেছে, গমের দাম বেশি হলেও ভুট্টার ফলন বেশি। তাছাড়া ভুট্টা চাষে তুলনামূলক খরচ অনেক কম। তাই গমের পরিবর্তে ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এছাড়া গম চাষে রোগ-বালাইও বেশি। তাই গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষিসম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমি। কিন্তু চাষ হয়েছে ২ হাজার ৪৪৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২১৫ হেক্টর কম জমিতে গম চাষ হয়েছে।
সূত্র জানায়, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ১০ হাজার কৃষককে এক বিঘা করে জমিতে গম চাষের জন্য ২০ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপিসহ মোট ৪০ কেজি করে সার প্রণোদনা দেওয়া হয়।
ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালের চর ইউনিয়নের কৃষক মুনু মিয়া অভিযোগ করেন, যাদের গমের বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে তারা গম চাষ করেছে কি না সেটাই তদন্ত করে দেখা উচিৎ।
সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানিয়া এলাকার কৃষক সফিক বলেন, ক্ষেত প্রস্তুত থেকে শুরু করে রোপণ, সার-কীটনাশক প্রদান, সেচ ও কাটা-মাড়াই শেষে গম বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠে না তাদের। এ ছাড়া সরকারি গুদামে গম বিক্রি করতে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হলেও প্রকৃত কৃষকরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার এ.এল.এম রেজুয়ান জানান, গম চাষে ৮৫০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৮৪০ হেক্টর চাষ হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে এর কোন বাস্তবতা লক্ষ্য করা যায়নি।
জামালপুর জেলা কৃষিসম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক জাকিয়া সুলতানা জানান, বর্তমানে আমাদের দেশ শীতকাল চলছে। স্বল্পকালীন ফসল হওয়ায় গমের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা, ইদুঁরে উপদ্রব, সর্বোপরি স্বল্প খরচ, স্বল্প শ্রমিক ও স্বল্প সেচে ভুট্টা চাষ লাভজনক হয়ে উঠায় গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা।
বার্তা টোয়েন্টিফোর
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।