মাতুয়াইলে ময়লার ভাগাড়ে সবজি চাষ চলছে
ঢাকার মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল, যা মূলত ময়লার ভাগাড় হিসেবে পরিচিত, সেখানে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি। এই জায়গায় মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে লাশ শাক, পুঁইয়ের ডাঁটা এবং লাউয়ের ডগা। এখানে চাষ হওয়া লাল শাক, পুঁই শাক, পাট শাক, কলমি শাক, লাউ এবং কুমড়ো রাজধানীর রান্নাঘরে চলে যাচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃক উৎপাদিত বর্জ্য বাছাই না করেই সংগ্রহ করা হয় এবং পরে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে নিয়ে রাখা হয়। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে স্বাস্থ্যসম্মত বর্জ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে চাষ করা সবজি কতটা নিরাপদ?
এর আগে ঢাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাছ চাষের ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৯ সালে শ্যামপুরের ওয়াসার পয়ঃশোধনাগারে মাছ চাষ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। এবার মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল্ডে শাক-সবজির চাষ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চাষিরা জানান, তারা সিটি করপোরেশন থেকে জায়গা নিয়ে এখানে সবজি চাষ করছেন। দেলোয়ার হোসেন নামের একজন চাষি বলেন, তিনি প্রায় দেড় একর জমিতে লাল শাক ও মূলা শাক লাগিয়েছেন এবং যাত্রাবাড়ীতে পাইকারি বিক্রি করেন।
মাতুয়াইলের আশেপাশের বাসিন্দা মোয়াল্লেম সর্দার জানান, এখানে কিছু লোকজন সবজি চাষ করছেন এবং সিটি করপোরেশন তাদের জায়গা দিয়েছে। এসব সবজি যাত্রাবাড়ী ও কারওয়ান বাজারে বিক্রি হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাতুয়াইলের সবজিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি রয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি গবেষণা করে জানিয়েছে যে, এসব সবজিতে ক্যাডমিয়াম, লেড ও ক্রোমিয়ামের মতো ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে লাল শাকে ক্যাডমিয়ামের মাত্রা সহনীয় সীমার চেয়ে অনেক বেশি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এসব সবজি খেলে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তারা বলেন, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের মতো জায়গায় সবজি চাষ করা উচিত নয়।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বলেন, তারা নমুনা পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেবেন। তিনি জানান, “এটা আমাদের নজরে আছে এবং আমরা বিষয়টি যাচাই করছি।”
ডিএসসিসির প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি জানেন এবং চেষ্টা করছেন যাতে এ ধরনের অবৈধ চাষ বন্ধ হয়।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।