বগুড়ায় সিন্ডিকেটের কারণে সার-আলুর দাম বাড়ছে
বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার শতাধিক হিমাগারে হাজার হাজার বস্তা আলু মজুদ রয়েছে, এবং সারের দোকানগুলোতে ইউরিয়া, ড্যাপ ও পটাশ সারের অভাব নেই। তবে, গ্রাহকরা যখন আলু বা সার কিনতে যান, তখন তাদের বলা হচ্ছে যে পণ্যগুলো ‘নেই’। কিন্তু দাম বেশি দিলেই সব পণ্য মিলছে।
ফলে খুচরা আলু ব্যবসায়ী, আলু চাষি এবং ধান চাষিদের বাধ্য হয়ে বেশি দামে এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে। বাজারে নতুন আলু উঠলেও পুরাতন খুচরা আলুর দাম কমছে না, পাশাপাশি আলু ও বোরো ধান চাষের খরচও বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, সিন্ডিকেটবাজির কারণেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল রোববার বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের বড় বেলঘরিয়া গ্রামে আলু ও ধান চাষি ইদ্রিস আলী জানান, তিনি বীজ আলুর জন্য স্থানীয় একটি হিমাগারে গেলে তাকে জানানো হয় যে বীজ আলুর স্টক শেষ। ফলে ৩ হাজার ২০০ টাকার বস্তা আলু বীজ নিতে গেলে তাকে ৪ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। হিমাগারের কর্মীরা বলেছে, এই দামে নিতে হবে, না হলে আসতে পারবেন না।
এছাড়া, তিনি সারের দোকানগুলোতে গিয়ে একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। ইদ্রিস জানান, ১ হাজার ৩৫০ টাকার ৫০ কেজির ইউরিয়া সারের বস্তা তাকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় কিনতে হয়েছে এবং ড্যাপের দাম ১ হাজার ৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, তাদের কাছে এ ধরনের অভিযোগ আসেনি। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, যদি কেউ অভিযোগ না করেন, তাহলে তারা কিছু করতে পারবেন না।
আলু, ধান এবং সারের এই সমস্যা শুধু শিবগঞ্জ উপজেলায় নয়; রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অন্যান্য জায়গাতেও একই অবস্থা বিরাজমান। একটি এনজিও গবেষণা সংস্থার নির্বাহী কেজি ফারুক জানান, সরকার পরিবর্তন হলেও কৃষি খাতে সিন্ডিকেট বিদ্যমান রয়েছে এবং তারা এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সিন্ডিকেট শুধু মুনাফার জন্য কাজ করছে না বরং সরকারের ভিত্তি নড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
মীর শাহে আলম নামে একজন সিনিয়র বিএনপি নেতা জানান, প্রশাসন ও ব্যবসা ক্ষেত্রে এখনও স্বৈরাচারী ভূত সক্রিয় রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের কৃষিখাতকে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের স্পট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে, বন্যার ক্ষতির পরও সবজির বাজারে প্রচুর পরিমাণে সবজি আমদানি হচ্ছে। বর্তমানে কাঁচা মরিচের দাম ৪০০ টাকা থেকে নেমে ৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজিতে। নতুন আলু নবান্ন উপলক্ষে বাজারে এসেছে এবং এর দাম ২৬০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নবান্নের উৎসব কমলে ধীরে ধীরে আলুর দামও কমবে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, যদি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সারের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর মনিটরিং না করা হয় তবে ভবিষ্যতে চাল ও আলু চাষ গভীর সংকটে পড়বে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।