পেঁয়াজ রসুন বীজের দাম বাড়ছেই
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় পেঁয়াজ ও রসুন বীজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, এক বিঘা রসুন চাষে খরচ হচ্ছে ৩০ হাজার টাকা এবং পেঁয়াজ চাষে ৫৫ হাজার টাকা।
নাদোসৈয়দপুর, সগুনা ইউনিয়নের কাটাবাড়ি ও হেমনগর গ্রামের কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে রসুন আবাদ করতে ৩ মণ ভালো মানের বীজ প্রয়োজন, যার দাম এ বছর ৩০ হাজার টাকা। গত বছর এই দাম ছিল ২২ হাজার ৫০০ টাকা। এর মানে, বিঘাপ্রতি বীজের খরচ বেড়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। অপরদিকে, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদের জন্য ৮ মণ ভালো মানের বীজ লাগে, যার দাম এ বছর ৫৫ হাজার টাকা, যা গত বছরের ২৮ হাজার টাকার তুলনায় অনেক বেশি।
এ মৌসুমে দুই ফসলের বীজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, তাড়াশের ৮টি ইউনিয়নে মোট ৭৫০ হেক্টর জমিতে রসুন এবং ১৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষক বাবুল আকতার বলেন, আগাম পেঁয়াজ ও রসুনের বীজ রোপণ চলছে এবং ফেব্রুয়ারিতে এই ফসল উঠবে। তবে বীজের উচ্চমূল্য কৃষকদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাদোসৈয়দপুর গ্রামের কৃষক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “বীজ কিনতে এত টাকা খরচ হলে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও অন্যান্য খরচ বহন করা কঠিন হবে।”
তাড়াশ ও চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে প্রতি মণ রসুন বীজ বিক্রি হচ্ছে ৯ হাজার ৬০০ থেকে ১০ হাজার টাকায়, যা গত বছরের সাড়ে ৭ হাজার টাকার তুলনায় অনেক বেশি। পেঁয়াজ বীজও বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৮০০ টাকায়, যা গত বছর ছিল সাড়ে ৩ হাজার টাকা।
নওগাঁ হাটের রসুন বীজ বিক্রেতা শুক্কুর আলী জানান, “পেঁয়াজ-রসুন বীজের দাম সবসময় খাবারযোগ্য পণ্যগুলোর চেয়ে বেশি থাকে।” কাটাবাড়ি গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, “এক বিঘা জমিতে ভালো ফলন হলে রসুন পাওয়া যায় ৩৮ থেকে ৪০ মণ এবং পেঁয়াজ পাওয়া যায় ৮০ থেকে ৯০ মণ।”
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বাজারে পেঁয়াজ-রসুন বীজের দাম বেশি হলেও ভালো ফলন হলে কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।” তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি করা হচ্ছে যাতে সব ধরনের পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা যায়।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।