২৩ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

চড়ুই পাখি নিধনের পর মারা যান কোটি মানুষ!

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৮ নভেম্বর ২০২৪ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
চড়ুই পাখি নিধনের পর মারা যান কোটি মানুষ!

গেল শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে চীনে চড়ুই পাখির অত্যাচার শুরু হয়, যা কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই পাখির দল পাকা ধান খেয়ে ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দেয়, যা তখনকার সরকারকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। চীনের প্রেসিডেন্ট মাও সেতুং চড়ুই পাখি নিধনের নির্দেশ দেন।

১৯৫৮ সালে এই নিধন অভিযান শুরু হলে, কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পান। কিন্তু প্রকৃতি প্রতিশোধ নেয় এবং এর ফলে কয়েক কোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এই ঘটনার ক্ষতচিহ্ন আজও চীনে দেখা যায়।
মাও সেতুং তখন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান ছিলেন এবং তিনি চেয়েছিলেন দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে। চড়ুই পাখির কারণে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে শুনে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, দেশকে চড়ুই মুক্ত করতে হবে।

মাওয়ের নির্দেশে কৃষকদের জন্য একটি রিপোর্ট আসে, যাতে বলা হয়, মাছি, মশা, ইঁদুর এবং চড়ুই ফসলের উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি করছে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, এই প্রাণীগুলিকে নির্মূল করলে রোগের প্রকোপ কমবে এবং কৃষির উন্নতি হবে।

চীনজুড়ে ‘চড়ুই হত্যা’ অভিযান শুরু হলে, সরকার বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা করে। জনগণ চড়ুইয়ের বাসা ভেঙে ডিম নষ্ট করত এবং বিকট শব্দে পাখিগুলোকে ভয় দেখানো হত। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সরকারি কর্মচারীরা সবাই এই অভিযানে অংশ নেন।

২০১০ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ে দাবি করা হয় যে, এক বছরে ১০০ কোটি চড়ুই হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু এই নিধনের পর প্রকৃতির ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। চড়ুইয়ের অভাবে পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়তে থাকে।

১৯৬০ সালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় যখন খরার কবলে পড়ে দেশ এবং পঙ্গপালের আক্রমণ ঘটে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে কৃষিজমি বিষাক্ত হয়ে যায়, যার ফলস্বরূপ উৎপাদন হ্রাস পায় এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

এই দুর্ভিক্ষে মৃতের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেড় কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। প্রথমে মাও সেতুং এই দুর্ভিক্ষের জন্য চড়ুই নিধনকে দায়ী করতে রাজি ছিলেন না, তবে পরে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন।

গত বছর গ্রেট স্প্যারো ক্যাম্পেইনের ওপর দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়, যেখানে বলা হয়েছে যে, এই দুর্ভিক্ষের ফলে যারা বেঁচে গিয়েছিল তাদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।