২৩ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

পোকার কারণে জুড়ীর কমলা গাছ মরছে দ্রুত

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৯ নভেম্বর ২০২৪ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
পোকার কারণে জুড়ীর কমলা গাছ মরছে দ্রুত

জুড়ী উপজেলার কমলার বাগানগুলোর জন্য পরিচিত মৌলভীবাজারে বর্তমানে একটি নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। খাঁসি ও নাগপুরি জাতের কমলার বাগানে পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে, যা ঐতিহ্যবাহী এই কমলার উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলছে। পুরাতন কমলা গাছগুলো একের পর এক মারা যাচ্ছে এবং নতুন চারাগুলোও বড় হওয়ার আগেই মারা যাচ্ছে। কৃষক এবং কৃষি কর্মকর্তারা এই চতুর্মুখী আক্রমণ প্রতিরোধে ব্যর্থ হচ্ছেন।

জুড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৯৭.৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ৯৫টি কমলা বাগান রয়েছে, যার মধ্যে গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নে ৬২ হেক্টর জমি রয়েছে। এই বাগানগুলোতে খাঁসি ও নাগপুরি জাতের সুস্বাদু কমলা উৎপাদিত হয়। চলতি বছর কমলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬৯৫ টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লালছড়া গ্রামের কৃষক মোর্শেদ মিয়া জানান, তার বাগানে ১,৫০০ কমলা গাছ ছিল, যার মধ্যে গত তিন বছরে ৪০০ গাছ মারা গেছে। বর্তমানে ৬০০ গাছের মধ্যে প্রায় ২০০ গাছ মারা যাওয়ার পথে রয়েছে। প্রথমে সাদা পোকা মাটির নিচে শিকড় থেকে পানি শুষে নেয় এবং পরে উঁইপোকা শিকড় খেয়ে ফেলে।

তিনি আরও জানান, প্রথম বছরে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায়, দ্বিতীয় বছরে পুরোপুরি হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে এবং তৃতীয় বছরে গাছটি মারা যায়। পোকার আক্রমণের ফলে প্রথমে কমলার আকার স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে তা ক্রমশ ছোট হয়ে যায়।

লালছড়া এলাকার আরেক চাষি জয়নুল মিয়া জানান, তার বাগানে ৮০০ কমলা গাছ ছিল, যার মধ্যে ১০০ গাছ মারা গেছে। প্রজাপতির মতো পোকার আক্রমণে গাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে, তবে তাতে কার্যকরী ফল মিলছে না।

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, “আমরা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করছি। পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হচ্ছে। আমরা কিছু কীটনাশক সরবরাহ করেছি, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি।”

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাবলু সূত্রধর বলেন, "আমরা কৃষি অফিসারদের সঙ্গে বাগান পরিদর্শন করেছি এবং সমস্যা বিশ্লেষণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ দেবো যাতে কমলা চাষ আরও উন্নত হয়।"

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।