বোরো আবাদের আগেই বাড়তি খরচ, লোকসানের শঙ্কা কৃষকের
চলনবিল অঞ্চলের নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার কিছু অংশে বিস্তৃত জলাভূমি রয়েছে, যেখানে বন্যা বা বৃষ্টির পানি জমা হলেও ডিসেম্বর নাগাদ তা কমে যায়। সাধারণত, এই সময়ের পর কৃষকরা বোরো আবাদ শুরু করেন। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন; বিলম্ব বন্যার কারণে কচুরিপানা নদীতে ভেসে যেতে পারেনি। নাটোর অংশে ১০ হাজার হেক্টর জমি কচুরিপানায় ঢাকা পড়ে গেছে, যা বোরো আবাদ শুরুর আগেই কৃষকদের জন্য বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, বোরো ধান চাষের জন্য যে লাভের আশা ছিল, জমি পরিষ্কার করতে যেসব খরচ হচ্ছে, তাতে লোকসানের শঙ্কা রয়েছে। নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল গ্রামের কৃষক সায়েদ আলী দুই বিঘা জমিতে বোরো আবাদ শুরু করতে যাচ্ছেন, তবে জমিতে হাঁটুসমান পানি এবং কচুরিপানা থাকায় তিনি নিজেই জমি পরিষ্কার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি জানান, কচুরিপানা পরিষ্কার করতে প্রতি বিঘায় ৬-৭ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। একইভাবে, সিংড়ার নিঙ্গইন গ্রামের কৃষক হাশেম আলীও একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
সিংড়া উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলনবিলের নাটোর অংশে প্রতি বছর প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়। কিন্তু এবারে ১০ হাজার হেক্টর জমি কচুরিপানায় ঢাকা পড়েছে এবং ৪ হাজার হেক্টর জমির সরিষা চাষও ব্যাহত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে চলনবিল অঞ্চলে বিলম্ব বন্যা আসে এবং এতে কচুরিপানা জমিতে থেকে যায়, যা বোরো মৌসুমে চাষাবাদকে ব্যাহত করছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।