দেশি জাতের ধানের সংকট বাড়ছে দেশে
বহুজাতিক কোম্পানির বাণিজ্যের প্রভাবে দেশি প্রজাতির ধান হারিয়ে যাচ্ছে। দুই যুগ আগে তাহিরপুর উপজেলার হাওরগুলোতে দেশি জাতের বোরো ধানের চাষ প্রচলিত ছিল, কিন্তু বর্তমানে এ অঞ্চলে হাইব্রিড ধানের চাষ বাড়ছে।
দেশি বোরো ধান রোপণের জন্য তেমন কোনো যত্নের প্রয়োজন হতো না এবং জলবায়ু সহিষ্ণু ছিল। অতিবৃষ্টি কিংবা খরাতে এই ধানের ফলন কম হলেও কৃষকরা সহজেই চাষাবাদ করতে পারতেন। তবে এখন কৃষকরা বেশি ফলনের আশায় হাইব্রিড ধানের দিকে ঝুঁকছেন।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, তারা কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল বীজের পাশাপাশি দেশি প্রজাতির ধানের বীজ সংরক্ষণের পরামর্শ দেন। কিন্তু কৃষকরা জানান, দেশি জাতের ধান চাষে উৎপাদন খরচ কম হলেও বর্তমানে তারা বাজার থেকে উচ্চমূল্যে বীজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, “দেশি জাতের ধান চাষের উৎপাদন খরচ কম ছিল এবং তখন গ্রামে পিঠা-পায়েস তৈরির ধুমও ছিল। কিন্তু এখন তা আর হয় না।”
মাটিয়ান হাওরের কৃষক সত্য রায় জানান, আগে তারা নিজস্ব বীজ সংরক্ষণ করতেন, কিন্তু এখন বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে।
এদিকে, উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, “কৃষকরা বেশি লাভের জন্য উচ্চ ফলনশীল ধান রোপণ করছেন।”
দেশি জাতের ধানের মধ্যে রয়েছে রাতা, গচি শাইল, নাজিশাইল, লাকাই ও অন্যান্য প্রজাতি। এগুলো হারিয়ে যাওয়ার ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ও বৈচিত্র্য সংকট দেখা দিতে পারে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।