বিষমুক্ত সবজির ফলন বাড়ছে দ্রুত
বাংলাদেশের উত্তরের বিভিন্ন জেলায় কৃষকরা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে পরিবেশবান্ধব বিষমুক্ত সবজি চাষে মনোনিবেশ করেছেন। বগুড়া, রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় এই সবজি ক্ষেতগুলো দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা এই চাষের মাধ্যমে নতুন এক কৃষি আন্দোলন শুরু করেছেন। তাদের মতে, যে খাবার মানুষের জন্য বিপদ ডেকে আনে, তা তারা উৎপাদন করবেন না।
এখন কৃষকেরা বিষমুক্ত সবজি চাষের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটাচ্ছেন এবং বাজারে তাদের উৎপাদিত সবজির চাহিদাও বাড়ছে। বগুড়ার শাজাহানপুরের চুপিনগর ইউনিয়নের কামারপাড়া ও জৈন্তপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দূরে সরিয়ে ভেষজ পদ্ধতি এবং ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে চাষাবাদ করছেন।
কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, “আগে রাসায়নিক ব্যবহার করতাম, কিন্তু এখন কেঁচো সার আর ভেষজ ওষুধ ব্যবহার করছি। এতে মাটির উর্বরতা ফিরে এসেছে এবং ফসলের গুণমান বেড়েছে।”
এছাড়া, কামারপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, “আমরা গোবর আর কিছু জৈব উপাদান ব্যবহার করে কেঁচো সার তৈরি করি। এই সার জমিতে দিলে ফলন অনেক ভালো হয়।”
এদিকে, পাইকার সালাম সওদাগর জানান, “ঢাকার বাজারে বিষমুক্ত সবজি ভালো দামে বিক্রি হয়। ক্রেতারা নিরাপদ খাবার খুঁজছেন, তাই এর দাম একটু বেশি হলেও সমস্যা হয় না।”
প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি খেতে নিরাপদ বলে চাকরিজীবী মোসলেম উদ্দিন মন্তব্য করেন। কৃষকদের সহযোগিতা করতে গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মতলুবুর রহমান বলেন, “বিষমুক্ত চাষাবাদে কৃষক এবং ক্রেতা উভয়ই লাভবান হচ্ছেন। আমরা এই পদ্ধতি সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।”
এছাড়া, রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুরের হাকিমপুরসহ অন্যান্য অঞ্চলে কৃষকেরা কীটনাশক ছাড়া সবজি চাষ করছেন এবং ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে জমির উর্বরতা বাড়াচ্ছেন।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।