উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে কমেছে মাছ-মাংস খাওয়া
বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য গ্রহণের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। মাছ ও মাংসের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে তারা এখন ভাত ও শর্করাজাতীয় খাবারের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কম দামের মাছ যেমন তেলাপিয়া ও পাঙাশের চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু আলু, পেঁয়াজ, সবজি, সয়াবিন তেল এবং চিনি খাওয়ার পরিমাণ কমেছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এর সাম্প্রতিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, চালের দাম প্রতি কেজিতে ৫৪.৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫৭.৪৬ টাকায় পৌঁছেছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের মানুষ এখন গড়ে ৫ গ্রাম মাছ খান, যখন উচ্চ আয়ের মানুষ খান ১০ গ্রাম। গত বছর গ্রামের মানুষ দৈনিক মাথাপিছু ৩৪৯ গ্রাম ভাত খেতেন, যা বেড়ে ৩৯৪ গ্রাম হয়েছে। অন্যদিকে গরুর মাংস খাওয়ার পরিমাণ ১০ গ্রাম থেকে কমে ৪ গ্রামে নেমে এসেছে।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকা মানুষের খাদ্যের ধরন পাল্টেছে। তারা এখন কম দামের মাছ কিনছেন এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।
এছাড়া, কৃষকদের জন্য সারের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করার দাবি উঠেছে, যাতে তারা উৎপাদন বাড়াতে পারেন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।