ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে তাড়াশের কৃষকদের
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা, যা চলনবিল অধ্যুষিত একটি শস্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত, সেখানে কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ হলো ভুট্টার বাজার মূল্য ভালো এবং চাষাবাদে ঝামেলা কম। বর্তমানে ভুট্টা শুধুমাত্র মাছ ও মুরগির খাদ্য নয়, বরং মানুষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য শস্যে পরিণত হয়েছে। উন্নত পুষ্টিমানের কারণে গমের আটার বিকল্প হিসেবে ভুট্টার গুড়ো দিয়ে বিস্কুট, চানাচুর, কেকসহ নানা ধরনের খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ভুট্টা সাধারণত চাষ ও বিনা চাষ—এই দুই পদ্ধতিতে আবাদ হয়ে থাকে। খরচ কম এবং অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় বোরো আবাদের পাশাপাশি অনেক কৃষক এবার ভুট্টা চাষ করছেন। তারা এবারে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন। তাড়াশ উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হলেও সকল ইউনিয়নে সমানভাবে ভুট্টার চাষ হয় না। সাধারণত চর অঞ্চলে ভুট্টার চাষ বেশি হয়, কারণ বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ মাটি এবং বন্যামুক্ত উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে তাড়াশ উপজেলায় ১,৩৯৩ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে ৬১৬ হেক্টর জমিতে চাষ পদ্ধতিতে এবং ৭৭৭ হেক্টর জমিতে বিনা চাষে ভুট্টা উৎপাদন করা হয়। চলতি বছরে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৪০০ হেক্টর জমিতে। এই অঞ্চলে বারি-৫, বারি-৬, বারি-৭, বারি মিষ্টি ভুট্টা-১ এবং বারি বেবি কর্ণ-১ জাতের ভুট্টা বেশি চাষ হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তালম ইউনিয়ন, বারুহাস ইউনিয়ন, সগুনা ইউনিয়ন, মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন, নওগাঁ ইউনিয়ন ও তাড়াশ সদর ইউনিয়নে ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন যে, যেসব জমিতে বিনা চাষে ভুট্টা লাগানো হয়েছে সেখানকার গাছগুলো একটু বড় হয়ে উঠেছে এবং যেসব জমিতে চাষ করে ভুট্টা লাগানো হয়েছে সেখানকার গাছগুলো কিছুটা ছোট রয়েছে।
ভুট্টা আবাদে তুলনামূলক খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না ঘটলে কৃষকেরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, "আবহাওয়া ভালো থাকায় এবছর ভুট্টার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১,৪০০ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সময়ের সাথে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে বলে আশা করছি। রোগ-বালাই দমনে কৃষি বিভাগের লোকজন সার্বক্ষণিক কৃষকের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে আসছেন।"
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।