২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

পান চাষে খরচ কম, লাভ বেশি

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
পান চাষে খরচ কম, লাভ বেশি

বরগুনায় পান চাষের মাধ্যমে কৃষকরা অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পান চাষের পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক উদ্যোগ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। পান চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক বছরে লাখ টাকা আয় করছেন। তবে সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে প্রায় ৩ হাজার পানচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যার ফলে ১১ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

সদর উপজেলার কুমড়াখালী গ্রামের কৃষক রহিম ফরাজী বলেন, “২০২০ সালের শেষ দিকে এক পানচাষির পরামর্শে আমি পান চাষে উৎসাহিত হই। প্রথম বছরে এক বিঘা জমিতে চাষ শুরু করি এবং এক বছরের মাথায় সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল।” তিনি আরও জানান, এখন তার বার্ষিক আয় লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এভাবে বরগুনার অনেক কৃষক সফলতা অর্জন করেছেন। পান চাষের লাভ এবং উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমানে সদর, আমতলী, তালতলী ও পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পান চাষের বরজ চোখে পড়ছে। কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে চাষিদের সহায়তা করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩৮৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে এবং মোট ৪ হাজার ১১২টি বরজ রয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলায় রয়েছে ৭৫০টি বরজ, যা কৃষকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়স্রোত হিসেবে কাজ করছে।

সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পানচাষি দীজেবর জানান, “প্রতি বিঘা জমিতে পানের বরজ থেকে আমার প্রায় ২ লাখ টাকা আয় হয়।” তিনি আরও বলেন, “পান চাষে অন্য কৃষির তুলনায় খরচ কম এবং লাভ বেশি।”

তবে সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে পানচাষিদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাথরঘাটা উপজেলার পানচাষি শফিকুল ইসলাম জানান, “ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রায় ১৮৪ হেক্টর জমির পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. আবু সৈয়দ মো. জোবায়দুল আলম বলেন, “বরগুনায় উৎপাদিত পান স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অন্য অঞ্চলেও বিক্রি হয়।”

এদিকে, কৃষিবিদরা বলছেন, যদি পতিত জমিগুলো চাষের আওতায় আনা না হয় এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি না করা হয়, তাহলে দিন দিন এই অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পাবে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।