আধুনিক পদ্ধতিতে বোরো চাষ, কমবে খরচ
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে, যেখানে স্থানীয় কৃষি বিভাগ প্রথমবারের মতো বোরো ধানের চারা উৎপাদন করছে। গজারিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দা গ্রামে ১৫০ বিঘা জমিতে সমলয় পদ্ধতিতে হাইব্রিড জাতের ধান রোপণ করা হবে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এই পদ্ধতি অবলম্বন করার ফলে ধানের উৎপাদন খরচ কমানো, শ্রমিক সংকট নিরসন এবং কৃষকদের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণের তথ্যমতে, বৈরী আবহাওয়া থেকে বীজতলা রক্ষায় ট্রে পদ্ধতি (প্লাস্টিকের ফ্রেম) সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। এই পদ্ধতি কৃষকদের মধ্যে সমন্বয়ের ভিত্তিতে চাষাবাদে আগ্রহ সৃষ্টি করবে এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রগুলো অল্প সময়ে অনেক বেশি কাজ করতে সক্ষম।
এ বছর প্রথমবারের মতো নোয়াকান্দা গ্রামের ১২০ জন কৃষকের একটি গ্রুপ নতুন পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করছে। কৃষক ফারুক মিয়ার ৪৫ শতাংশ জমিতে ২ হাজার ৩২০টি ট্রেতে ১০ কেজি করে মোট ৬০ প্যাকেট বোরো ধানের বীজ ফেলা হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, এই পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের জন্য ট্রেতে ১ ইঞ্চি স্তরের মাটি দিয়ে বীজ বপন করা হয়।
ট্রেতে উৎপাদিত চারা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার (ধান রোপণ করার যন্ত্র) দিয়ে মাঠে রোপণ করা হবে, যা সময় সাশ্রয়ী এবং নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চারা রোপণের সুযোগ দেয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকরা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে ধানের চাষ করতে পারবেন।
এদিকে, কৃষকরা জানিয়েছেন যে, তারা প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতিতে ধানের চারা উৎপাদন করছেন এবং যন্ত্রের মাধ্যমে এ চারা রোপণ করবেন। আধুনিক পদ্ধতির এই চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন কৃষক এ প্রদর্শনী দেখতে আসছেন।
খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদ্ধতির ধানের চারা মাঠে রোপণ করা হবে। কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন যে, এই প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকদের খরচ কমাবে এবং ধানের ফলন বাড়াবে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।