২৩ দিনে ১৪ অভিযান, তবুও থামেনি কৃষি জমির মাটিকাটা
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটা চলছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত প্রশাসন ১৪টি অভিযান পরিচালনা করেছে, তবে এসব অভিযান সত্ত্বেও মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস সুমিত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, চলতি মাসে মাটি কাটার বিরুদ্ধে ১৩টি অভিযানে পাঁচজনকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৫০টির বেশি স্থানে মাটি কাটা হচ্ছে। শীত মৌসুমের শুরু থেকেই এই কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী সরকারের পতনের পরও মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি; বরং যারা এই কাজে জড়িত তাদের নাম পরিবর্তন হয়েছে। তারা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে মাটি কাটার ফলে ফসলি জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ভূমি নিচু হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার একাধিক কারণের মধ্যে ফসলি জমির মাটি কাটাকেও দায়ী করা হচ্ছে।
এদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ফসলি জমির মাটি কাটার ফলে কৃষকদের চাষাবাদ ব্যাহত হতে পারে। কৃষক ফরিদ আহমেদ বলেন, “এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি, কিন্তু পানির স্তর নেমে যাওয়ায় সেচ দিতে সমস্যা হচ্ছে।”
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ পারভেজ বলেছেন যে, “ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে নলকূপে পানি পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
এছাড়া, বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে যে, জেলার ১ হাজার ৮৬৭টি গভীর নলকূপ রয়েছে এবং এসব নলকূপ দিয়ে সেচ দেয়া হয়। তবে পর্যাপ্ত পানির অভাবে ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।