কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প: বিক্রয় পরবর্তী সেবা না পেয়ে বিড়ম্বনায় কৃষক
বাংলাদেশের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা বিক্রয় পরবর্তী সেবা না পাওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়ছেন। কৃষকদের অভিযোগ, তারা সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে যন্ত্রাংশ ক্রয়ের পর প্রয়োজনীয় সেবা পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাম্প্রতিক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২০ সালের জুলাইয়ে সরকার কৃষকদের ভর্তুকি মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য ৩ হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পাঁচ বছরের প্রকল্প গ্রহণ করে। এর উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের ফসল উৎপাদন বাড়ানো, সময় বাঁচানো এবং মুনাফা নিশ্চিত করা।
আইএমইডির সমীক্ষায় দেখা গেছে, কৃষকরা সরকারের নিয়োগকৃত স্থানীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যন্ত্রপাতির বিক্রয়োত্তর পরিষেবা পেতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী, যেসব কৃষক সরকারি নিয়োগকৃত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যন্ত্রপাতি কিনবেন, তারা ৩ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা পাবেন।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, কম্বাইন হারভেস্টার, পাওয়ার থ্রেশার এবং রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের মতো যন্ত্রপাতির জন্য কৃষকরা ১ বছরের ওয়ারেন্টি পাবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক কৃষক অর্থ প্রদানের পরও যন্ত্রপাতি পেতে বেগ পাচ্ছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে নিম্নমানের সরঞ্জামও পাচ্ছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৪ শতাংশ কৃষক জানিয়েছেন যে, তারা ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্যদের তালিকায় নাম পেতে অসুবিধায় পড়ছেন। প্রায় ৪৩ শতাংশ কৃষক অভিযোগ করেছেন যে তারা অর্থ দেওয়ার পরও যন্ত্রপাতি পেতে পারছেন না।
মোহাম্মদ শওকত আলী নামের এক কৃষক বলেন, “আমি ২০২১ সালে কম্বাইন হারভেস্টার কিনেছিলাম। প্রথম বছর যন্ত্রটি ভালো কাজ করেছিল, কিন্তু পরে এর কর্মক্ষমতা খারাপ হতে শুরু করে। বিক্রয়োত্তর সেবা পেতে সমস্যায় পড়ছি, যার কারণে আমার উৎপাদনশীলতা কমে গেছে।”
এই পরিস্থিতিতে, কৃষকদের জন্য বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে যাতে তারা তাদের উৎপাদন বাড়াতে পারেন এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।