ঢাকা, ১৭ জুন ২০২৪, সোমবার

গরম কমাতে চার কৌশল



পরিবেশ

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

(১ মাস আগে) ২৪ এপ্রিল ২০২৪, বুধবার, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

agribarta

তাপের তীব্রতা কমাতে চারটি পন্থার কথা উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবেশবিদ ড. আসফাক আহমদ।

এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক আসফাক বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাস তথা সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর ঘূর্ণনের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে আমরা ধীরে ধীরে গরমের অবস্থার দিকে প্রবেশ করছি, প্রাকৃতিকভাবে নিকট ভবিষ্যতে শীতল পরিবেশ পাওয়ার আশা নেই। (Milankovitch চক্র)। পরবর্তী ৩০ হাজার বছরেও আর একটি বরফ যুগ আসার সম্ভবনা নাই।”

এছাড়া মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন গ্রিনহাউজ গ্যাসের কারণে প্রকৃতি আরও উষ্ণ হয়ে উঠছে। মরার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে এ বছর এল নিনো (El Nino) বছর। ফলে প্রকৃতি আরও উষ্ণ হচ্ছে।

“গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশের তুলনায় শহরের ইট-পাথরের এই কৃত্রিম পরিবেশের কারণে আমরা আরও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছি” -বলেন এই পরিবেশবিদ।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কিছু সহজ কাজ করলে, কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করলে, পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ কিছু তত্ত্ব অনুসরণে এই বিপর্যয়ের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

জলাশয় তৈরি করা

  • শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাশয় তৈরি করা প্রয়োজন। এজন্য প্রতিটি থানা/ ওয়ার্ডের পতিত, পরিত্যক্ত বা সরকারী খাস জমি ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা সরকার সুবিধামত জায়গা ব্যবহার করতে পারে।
  • পানির আপেক্ষিক তাপ মাটির তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। তাই জলাশয়ের নিকটবর্তী জায়গা আশপাশের এলাকার তুলনায় শীতল থাকে।
  • পানি আস্তে আস্তে তাপ শোষণ করে উত্তপ্ত হয়, তাপ ধরে রেখে পরিবেশকে শীতল রাখতে সহায়তা করে।
  • শহরের জলাশয় সৃষ্টি করে তাপ বৃদ্ধি রোধ করা সহজেই সম্ভব। যদি আজ একটা জলাশয় তৈরি করা হয় তবে এর ফলাফল আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পেতে পারি। তবে বৃক্ষরোপণ করে এ ফলাফল পেতে সময় বেশি লাগে।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও সমুদ্রের তীরে কিংবা কোনো জলাশয়ের পাড়ে থাকলে পরিবেশ ঠাণ্ডা হওয়ার প্রমাণ মেলে। আর বৃক্ষরোপণ করে সেটা থেকে ছায়া পেতে কয়েক বছর সময় লাগবে।”

ঘরবাড়িতে সাদা রং করা

সূর্যের আলোয় বিভিন্ন বর্ণের আলোকণা রয়েছে। এ সূর্যের আলো শোষণ করে কোন বস্তু তথা পরিবেশ গরম হয়ে থাকে।

ড. আহমদ ব্যাখ্যা করেন, “সাদা রং আমরা তখন দেখি যখন কোনো বস্তু সূর্যালোকের সাতটি বর্ণ কণিকার কোনটিই শোষণ না করে। ফলে তার প্রতিফলন ঘটে। ক্ষেত্রবিশেষে শোষণ করলেও পরিমাণ কম। ফলে সাদা ঘরের দেয়াল তথা ঘর কম গরম হয়।”

আর যদি কোন বস্তু সবুজ রং করা হয় তাহলে সবুজ বর্ণের আলোকণা ছাড়া অন্যান্য বর্ণের আলোকণা শোষণ করে তাকে বেশি উত্তপ্ত করে। এ ক্ষেত্রে শুধু সবুজ বর্ণের কণিকা প্রতিফলিত হয়। যে কারণে আমরা বস্তুটি সবুজ বলে বুঝতে পারি। অন্য রঙের বস্তুর বেলায়ও একই ঘটনা ঘটছে।

আগে আমাদের দেশে বাড়িঘর সাদা রং (চুনকাম) করা হতো, আগে সাদা ছাড়া বর্তমানের মতো লাল, নীল, সবুজসহ বিভিন্ন রঙের ভবন দেখা যেত না।

তিনি বলেন, “কোনো একটা বস্তু তখনই সাদা দেখায় যখন সেটা আলো শোষণ না করে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত করে।”

ফলে আগের সাদা ঘরগুলো আলো শোষণ না করার কারণে তুলনামূলকভাবে শীতল থাকত।

বর্তমানের দৃষ্টিনন্দন রঙিন বাসাবাড়িগুলো সাদা রং ছাড়া সম্পূর্ণ আলোকরশ্মি শোষণ করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রাতের বেলায় ধীরে ধীরে তাপ হারাচ্ছে। পরিবেশ উত্তপ্ত থাকছে। ফলে দিন-রাত্রের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসছে।

“আমাদের বাড়িঘর সাদা করার ব্যবস্থা আমরা খুব সহজেই অল্প খরচে করতে পারি” -বলেন ড. আহমদ।

ভবনের ছাদে সাদা রং করা

আর একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বাসাবাড়ির ছাদগুলো সাদা রঙ করা। এটারও একই নিয়ম।

ছাদ দিনের বেলায় সূর্যের আলো শোষণ না করে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত করবে। যা বাড়িঘর ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করবে।

এর মাধ্যমে তাপমাত্রা দুয়েক ডিগ্রি পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এই পদ্ধতি ‘রুফটপ হোয়াইটনিং’ নামে পরিচিত। তিনি বলেন, এই বিষয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে এবং এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য।

নিউইয়র্ক শহরের বিল্ডিং কোডে ২০১২ সালে এটা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। আমাদের দেশের বিল্ডিং কোডে এটা অন্তর্ভূক্ত করা দরকার এবং বর্তমানে যেসব দালান আছে সেগুলোর ছাদও সাদা করা দরকার। এই পদ্ধতিতে রাতের বেলা, এমনকি দিনের বেলাতেও ঘর ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করবে। আর দালানকোঠা ঠাণ্ডা রাখতে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ‘এনার্জি’ ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে।

রাস্তার দুপাশে বড় বড় বৃক্ষ লাগানো

চতুর্থ যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সেটার ব্যাপারে সবাই একমত, আর তা হল গাছ লাগানো। তবে পদ্ধতিগতভাবে ভিন্নতা আছে।

অধ্যাপক আসফাক মনে করেন, রাস্তার দুপাশে এবং বিভাজনগুলোতে বড় বড় বৃক্ষ লাগানোর দরকার যা ছায়া-প্রদানকারী হিসাবে কাজ করবে। এর উদাহরণের কোনো অভাব নেই।

বর্তমানে রাজধানীর মৎস ভবন থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সড়ক সবচেয়ে বড় উদাহরণ। এই তপ্ত দিনের যে কোনো সময়ে এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে খুব সহজেই এর বাস্তবতা বোঝা যায়। এজন্য কোনো বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার পড়ে না।