পাটজাত পণ্য তৈরি করে সচ্ছলতা এনেছেন নারীরা

উদ্যোক্তা /
সংকলিত

(৬ মাস আগে) ১২ আগস্ট ২০২৩, শনিবার, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

agribarta

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা খ্রিস্টান মিশন পল্লীতে তৈরি পাটজাত পণ্য যাচ্ছে বিদেশে। প্রতিদিন কাজের অবসরে এ পল্লীর বাসিন্দারা কাঁচা পাট দিয়ে নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ১৯৭৬ সাল থেকে এ পল্লীর বাসিন্দারা পাটজাত পণ্য তৈরি করছে। এতে তাদের সংসারে সচ্ছলতাও এসেছে।

সরজমিন কার্পাসডাঙ্গা খ্রিস্টান মিশন পল্লীতে দেখা যায়, ড্যানিয়েল মণ্ডল মন্টুর স্ত্রী মহিলা সমিতির সম্পাদিকা বুলবুলি মণ্ডল (৭০) তার বাড়ির সরু বারান্দায় বসে পাট দিয়ে কার্পেটের অংশবিশেষ তৈরি করছেন। ৪৭ বছর ধরে এ কাজে যুক্ত তিনি। ২৫০ টাকা মণ দরে যে পাট তিনি আগে কিনেছিলেন তা এখন ৪ হাজার টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু থেমে নেই তার কাজ। চাহিদামতো সামগ্রী বানিয়েই চলেছেন তিনি। অবসর সময় অন্য কাজে ব্যয় করতে তিনি নারাজ।

পাশের বাড়ির সৌম মণ্ডলও (৬৭) একই সময় ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন এ কাজ। গ্রাহকের চাহিদামতো তাদের পণ্য তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন তারা।

বুলবুলি মণ্ডল জানান, চাহিদা মোতাবেক পাট দিয়ে তৈরি করা হয় কার্পেট, টেবিল ম্যাট, ঘরের আড়ায় টাঙানো শিঁকে ও তার ভেতরের বাক্স, পাখি, মাছ, মেয়েদের ব্যবহৃত হাতব্যাগ, বালতি, ফুলদানি, জায়নামাজসহ বিভিন্ন পণ্য। পাট দিয়ে তৈরি একটি কার্পেট ও ম্যাটের টুকরো টুকরো অংশজুড়ে পরিপূর্ণ রূপ দিতে হয়। কর্মীদের দিয়ে ওই অংশগুলো তৈরি করে নেয়া হয়। সে অনুযায়ী তাদের টাকা পরিশোধ করা হয়।

ওই পল্লীর কর্মী চায়না মণ্ডল বলেন, ‘আমরা একেকজন একেকটি কাজ করি। আমরা মিশন থেকে চাহিদামতো পাট কিনে আনি। ওই পাট ভালোভাবে প্রস্তুত করে কাজ করতে হয়। ৮-১৫ দিনের মধ্যে কাজের অংশ জমা দিই। জমা দেয়ার পর পারিশ্রমিকের অংশ থেকে পাটের টাকা কেটে নিয়ে মজুরি দেয়া হয়। এতে ২-৩ হাজার টাকা রোজগার করা যায়।

আরেক কর্মী সীরা মণ্ডল বলেন, ‘১৯৭৪ সালে বিয়ের পর আমরা আলাদা হয়ে যাই। শ্বশুরবাড়ি থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমার স্বামী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এতে সংসারের টানাটানির শেষ ছিল না। সে টানাটানি কাটিয়ে উঠতেই আমি পাট দিয়ে তৈরি হস্তশিল্পের কাজ শুরু করি। এ কাজ করে দুই ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়েছি। মেয়ে নার্সিংয়ে পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি করছে। ছেলে ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। আমি বর্তমানে স্বাবলম্বী। কিন্তু এ কাজ ছাড়িনি। বরং এ কাজে ছেলের স্ত্রীকে যুক্ত করেছি। হস্তশিল্পের  কাজ করে প্রায় চার মাস পরপর ২০-২৫ হাজার টাকা আয় করি।’

খ্রিস্টান মিশন পল্লীর মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক বুলবুলি মণ্ডল বলেন, ‘১৯৭৬ সাল থেকে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার খ্রিস্টান মিশনারির মাধ্যমে এ কাজগুলো করানো হয়। এর আগে ইতালি থেকে কার্পাসডাঙ্গায় ধর্ম প্রচার করতে আসেন ফাদার জন। তিনিই তাদের এ কাজে সম্পৃক্ত করেন। সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলেও এ কাজ থেমে যায়নি। অভাব-অনটন থাকায় আগে এ কাজ করার জন্য মানুষের অভাব ছিল না। এখন অভাব ঘুচিয়ে প্রায় সবাই স্বাবলম্বী হওয়ায় কাজের মানুষ কমে গেছে।’

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকসানা মিতা বলেন, ‘কার্পাসডাঙ্গা মিশন পল্লীতে বিশেষ করে মেয়েরা যে পাটজাত পণ্য তৈরি করছে তা প্রশংসনীয়। এ হস্তশিল্পের সম্প্রসারণে তারা কোনো সরকারি সহযোগিতা চাননি। তারা যদি সহায়তা চান তাহলে অবশ্যই করা হবে।’ 

  • সূত্র : বণিক বার্তা