কিশোর ইমরানের মাসে আয় লাখ টাকা

উদ্যোক্তা /
সংকলিত

(৫ মাস আগে) ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, সোমবার, ২:২২ অপরাহ্ন

agribarta

যাত্রার শুরুটা হয়েছিল বছর সাতেক আগে। তা-ও মাত্র একটি বেলি ফুলের চারা দিয়ে। দিনে দিনে তার ফুল গাছ সংগ্রহের পাল্লাটা ভারী হতে থাকে। সময়ের ব্যবধানে তিলে তিলে গড়ে ওঠে ফুলের বিশাল ছাদ বাগান। এতেই বাজিমাৎ তার। প্রতিমাসে তার আয় এখন ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। শুনতে অবাক হওয়ার মতো হলেও এমন ছাদ বাগান করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এক কিশোর উদ্যোক্তা।

বলছিলাম শরীয়তপুরের ইমরান আহম্মেদের কথা। বয়স মাত্র ১৬ বছর। সদ্য পার করেছেন মাধ্যমিকের গণ্ডি। এ বয়সেই তার সংগ্রহে আছে ৩০০ প্রজাতির জবাসহ প্রায় ১ হাজার প্রজাতির ফুলের গাছ। এর মধ্যে আছে ‘ফরমোসা ব্ল্যাক পায়েল’ নামের একটি কালো প্রজাতির জবা। যা বাংলাদেশের অন্য কোনো নার্সারিতে নেই বলেও দাবি এ কিশোরের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের দুবাই প্রবাসী আবুল বাসার ও কাজী শিউলী আক্তারের একমাত্র ছেলে ইমরান আহম্মেদ। পড়াশোনা করছে মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছে ফুলের বাগান। ফুলের প্রতি ভালোবাসা তার ছোটবেলা থেকেই। তবে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় আত্মীয়ের বাসা থেকে একটি বেলি ফুলের চারা এনে রোপণ করে। চারাটি বড় হয়ে ফুল দেওয়া শুরু করলে আরও আগ্রহী হয় ফুলের গাছ লাগাতে।

এরপর বিভিন্ন ফুলের চারা সংগ্রহ করে বাড়ির উঠানসহ খালি জায়গায় লাগানো শুরু করে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় একটি ফেসবুক পেজে ফুলের চারা বিক্রি করতে দেখে আরও উৎসাহিত হয়। চিন্তা করে নিজেই হবে উদ্যোক্তা। এমন চিন্তা থেকে ‘আল ইমরান নার্সারি শরীয়তপুর’ নামে একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করে চারা বিক্রি শুরু করে। এ থেকেই শুরু হয় তার আয়।

চারা বিক্রির সময়ে ক্রেতাদের মধ্যে বিভিন্ন জাতের জবা ফুলের প্রতি আগ্রহ থাকায় এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে কলকাতা থেকে সংগ্রহ করে জবার অস্ট্রেলিয়ান, আমেরিকান, ব্যাঙ্গালুর, ট্রপিক্যাল প্রজাতির কালো, খয়েরি, হলুদ, লাল, গোলাপিসহ প্রায় ৩ শতাধিক রঙের চারা। পড়াশোনার পাশাপাশি এসব জাতের বিভিন্ন চারা উৎপাদন করে ৬৪ জেলায় বিক্রি করছে ইমরান। একেকটি চারা প্রজাতিভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এতে প্রতি মাসে গড়ে আয় করছে ৬০ হাজার টাকা।

ইমরান আহম্মেদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছাদের পুরো অংশে শোভা ছড়াচ্ছে হলুদ, লাল, গোলাপি, সাদা জবাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। রোদ থেকে গাছগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে তৈরি করা হয়েছে প্ল্যাস্টিকের ছাউনি। দক্ষ হাতে গাছগুলোকে পরিচর্যা করতে ব্যস্ত সময় পার করছে ইমরান। আগাছা পরিষ্কার শেষে ফুলের নতুন কুঁড়িগুলো নেড়েচেড়ে দেখছে। এরমধ্যেই কিছু গাছ আবার বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেও রেখেছে।

কিশোর ইমরান আহম্মেদ বলে, ‘ফুলের প্রতি ভালোবাসা থেকে বিভিন্ন জায়গা ও বৃক্ষমেলা থেকে ফুল গাছ এনে বাড়ির ফাঁকা জায়গায় আর ছাদে লাগানো শুরু করি। এতে আমার সংগ্রহে বিভিন্ন রকমের ফুল গাছ চলে আসে। একদিন অনলাইনে ফুল গাছ বিক্রির বিষয়টি নজরে আসে। নিজের হাতখরচ জোগাতে আমিও ফুল গাছ বিক্রি শুরু করি। ক্রেতাদের মধ্যে জবার ফুল গাছের চাহিদা দেখতে পেয়ে ভারত থেকে বিভিন্ন রকমের জবা আনাই। বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইনে চারা বিক্রি করে প্রতি মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আয় হয়। আমার একটাই ইচ্ছা, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জবা ফুলের প্রজেক্ট করা। এছাড়া আমার জবা ফুলের পাশাপাশি বাগান বিলাস আর এডোনিয়ামের সংগ্রহশালা গড়ার ইচ্ছা আছে।’

ইমরান আহম্মেদের খালা সেতারা বেগম বলেন, ‘ইমরানের ছোটবেলা থেকেই ফুল গাছ লাগানোর প্রতি একটা আলাদা টান ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি ও ছাদে বাগান করা শুরু করে। বর্তমানে নিজেই আয় করে পড়াশোনা চালাচ্ছে। পাশাপাশি বাগানটিও বড় করেছে। বর্তমানে ওর বয়সী ছেলেমেয়েরা মোবাইল ফোনে গেমস খেলে সময় কাটায়। ও ব্যতিক্রম কিছু করছে। এটি আমাদের জন্য সত্যিই গর্বের।’

ইমরানের বাগানে ফুলের চারা কিনতে আসা সাইফুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘এখানে এসে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ দেখে ভীষণ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রজাতির জবার চারা আমি এর আগে কখনো দেখিনি। ইচ্ছা আছে, এখান থেকে সব ধরনের জবার চারা নিয়ে আমার বাসার বেলকনিতে লাগাবো।’

পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর বেপারি বলেন, ‘আমি ইমরানের বিষয়ে এরই মধ্যে জানতে পেরেছি। ছাদ বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারা লাগিয়ে পাশাপাশি বিক্রি করে সাড়া ফেলে দিয়েছে ছেলেটি। ওর উদ্যোগটি বেশ ভালো। ইমরানের উদ্যোগটি নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে বলে আমি মনে করি।’

  • সূত্র : জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর