ঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার

বরিশালে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ক্যাপসিকাম চাষ



কৃষি

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(১ বছর আগে) ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, শনিবার, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

agribarta

বরিশালে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ চাষ। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এই উচ্চমূল্যের সবজি উৎপাদনে। জেলার বিস্তীর্ণ চরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ক্যাপসিকাম, আর চাষিরা আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন। তারা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা পেলে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।

বরিশাল সদর উপজেলার লড়াইপুর চরে গিয়ে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজি, তরমুজ ও বাঙ্গির পাশাপাশি বড় আকারে ক্যাপসিকাম চাষ হচ্ছে। চাষিরা জানিয়েছেন, গাছ থেকে দুইবার ফলন সংগ্রহ করা হয়েছে, আর কয়েক দফা ফলন তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্যাপসিকাম চাষি মো. ইব্রাহিম জানান, প্রায় তিন বিঘা জমিতে তিনি এই সবজি চাষ করেছেন এবং দুইবার ফলন সংগ্রহ করেছেন। তার মতে, চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও সহজে পানি সরবরাহের কারণে ফলন ভালো হয়। তবে চাষে খরচও বেশি, বিশেষ করে বীজের মূল্য অত্যন্ত উচ্চ।

অন্য চাষি মুনছুর মিয়া বলেন, “এক কেজি ক্যাপসিকামের বীজ কিনতে প্রায় ২.৮ থেকে ৩ লাখ টাকা লাগে। প্রতি বিঘা জমিতে চাষ করতে প্রায় ৬-৭ লাখ টাকা খরচ হয়। অথচ বাজারে প্রতি কেজি ১৫০-২২০ টাকায় বিক্রি হলেও আমরা পাই মাত্র ৮০-৯০ টাকা। কৃষি অফিস থেকে কোনো সহায়তা পাই না, সব নিজের খরচে করতে হয়।”

বরিশালের পাশাপাশি মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও ভোলার চরে ব্যাপকভাবে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু হয়েছে। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরিশাল বিভাগে ৭৬ হেক্টর জমিতে ১,৩৫৩ মেট্রিক টন ক্যাপসিকাম উৎপাদিত হয়েছে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ জিএমএম কবীর খান বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলে ক্যাপসিকাম চাষের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। অনেক চাষি সফল হয়েছেন। আমরা চাষিদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি। সরকারি সহায়তা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই চাষ কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”