ঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার

সূর্যমুখি ফুলের কৃষি খামার এখন বিনোদন কেন্দ্র



কৃষি

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(১ বছর আগে) ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, সোমবার, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

agribarta

সূর্যমুখী ফুলের মাঠ এখন যেন বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা এই বাগানগুলোতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দল বেঁধে আসছেন দর্শনার্থীরা, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। এই বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বাগান কর্তৃপক্ষ, ফলে বাগানে প্রবেশের জন্য নতুন নিয়ম জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, একসময় যেখানে শুধুই কৃষি কাজ চলত, সেই আমঝুপি বিএডিসি কৃষি খামার এখন ফুলপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানকার বিস্তীর্ণ সূর্যমুখী বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। অনেকে সেলফি তুলতে ব্যস্ত, কেউ আবার পরিবার নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। দর্শনার্থীদের বাড়তি ভিড় সামলাতে বাগান কর্তৃপক্ষকে নানান বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়েছে।

এই খামারে মূলত সূর্যমুখী চাষ করা হয় তেল উৎপাদনের জন্য। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই এটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আশপাশের জেলা থেকেও প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে আসছেন সূর্যমুখীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার সাওরাইদ গ্রামে এক বিস্তীর্ণ সূর্যমুখী বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এখানে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখীর চাষ শুরু করে। বর্তমানে এটি আশপাশের মানুষের বিনোদনের জায়গা হয়ে উঠেছে।

প্রথম দিকে দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ ফি ছিল ২০ টাকা, কিন্তু ভিড় বেড়ে যাওয়ায় তা বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। বাগানের বিভিন্ন স্থানে লেখা রয়েছে, "ফুল ছেঁড়লে ২০০ টাকা জরিমানা" এবং "গাছ নষ্ট করলে জরিমানা ২০০ টাকা।"

বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, বিনোদনের জন্য এই বাগান খোলা হয়নি, এটি একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প। সূর্যমুখী মূলত ভোজ্য তেল উৎপাদনের জন্য চাষ করা হয়, তবে দর্শনার্থীদের কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিম বলেন, "দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের ফলে মাটির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে, যা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে। এই বাগান তেল উৎপাদনের জন্য করা হয়েছে, পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নয়।"

তবে দর্শনার্থীরা এই জায়গাটিকে উপভোগ করছেন। অনেকেই বলছেন, "প্রকৃতির সৌন্দর্য এত কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়।"

বাগানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কর্তৃপক্ষ বাড়তি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রবেশের নিয়ম চালু করা হতে পারে।