টাঙ্গাইলে কলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

ক্যাম্পাস/
এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(৬ দিন আগে) ২২ জানুয়ারি ২০২৩, রবিবার, ৪:১৫ অপরাহ্ন

agribarta

অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় টাঙ্গাইলে কলা চাষে ঝুঁকছেন কৃষক। টাঙ্গাইলের মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুর উপজেলার মাটি কলা চাষের উপযোগী।  ধান, পাটসহ প্রচলিত অন্যান্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে শ্রম খুবই কম। বিক্রির ক্ষেত্রেও ঝামেলা নেই। কলার বাজারদরেও সহজে ধস নামে না। তাছাড়া সারা বছরই কলার চাষ করা যায়।

উৎপাদিত কলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৭০-৮০ ভাগই যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায়। এছাড়া ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, ফুলবাড়িয়া, সিলেট, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে এ কলা। মধুপুর উপজেলার জলযত্র, গারোবাজার এবং ঘাটাইলের কুতুবপুর বাজারে সবচেয়ে বেশি কলা বিক্রি হয়। এসব হাট থেকে প্রতিদিনই বের হচ্ছে ছোট-বড় মিলে ২০-৩০ ট্রাক কলা। মধুপুরের জলযত্র বাজারে সপ্তাহে দুুইদিন হাট বসে। এ দুই হাটেই কলা বিক্রি হয় কোটি টাকার ওপরে। একই চিত্র  কুতুবপুর ও গারোও বাজারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে কলা কিনতে আসেন পাইকার।

এ অঞ্চলে বারিকলা-১ ও বারিকলা-২ (আনাজিকলা), অমৃতসাগর, মন্দিরা, মন্দিরা সাগর, সবরি, চম্পা, চিনিচাম্পা, কবরি, মেহেরসাগরসহ বিভিন্ন  জাতের কলা চাষ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫০-৩৮০টি কলা গাছ রোপণ করা হয়। একটি কলা গাছে রোপণ থেকে বাজারজাত পর্যন্ত ১৫০-২০০ টাকা খরচ হয়। প্রতিটি কলার ছড়ি ৩৫০-৪৫০ টাকায় বিক্রি করা যায়। এ হিসাবে প্রতি বিঘায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা কৃষকের লাভ হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলে ৪ হাজার ৬৬৭ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলা আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কলা চাষ হচ্ছে মধুপুরে। উপজেলার মহিষমারা, শোলাকুড়ী, বেরীবাইদ, অরণখোলা, কুড়াগাছা, কাকরাইত, ভবানীটেকী, গরমবাজার, কাউচি বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে ২ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে।

এ বছর ঘাটাইল উপজেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। সন্ধানপুর, সংগ্রামপুর, রসুলপুর, লক্ষিন্দর, ধলাপাড়া ও সাগরদীঘি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি কলা চাষ করা হয়েছে।

মধুপুর উপজেলার মহিষমারার কৃষক ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘পৈতৃক জমি ও অন্যের কাছ থেকে লিজ নিয়ে আমি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফলের চাষ করেছি। এর মধ্যে ১ হাজার ৭০০ কলার চারা রোপণ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ও লাভ দুই-ই ভালো হবে।’

আরেক তরুণ কলাচাষী আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘পাহাড়ি অঞ্চল কলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এ কারণে টাঙ্গাইলে কলা চাষে লাভবান হওয়া যায়। তিনি বেকার যুবকদের চাকরির পেছনে না ছুটে কলা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন। যাতে নিজেরাও স্বাবলম্বী হওয়া যায় আর বেকারত্ব দূর করা যায়।’

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন রাসেল জানন, এ বছর উপজেলায় কিছুটা কলা চাষ কম হয়েছে। কারণ একই জমিতে বারবার কলা চাষ করলে মাটির উর্বরাশক্তি নষ্ট হয়ে পানামা পোকার আক্রমণে কলাচাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এবার মধুপুর উপজেলায় ২ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হচ্ছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আহসানুল বাসার বলেন, ‘চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলায় ৪ হাজার ৬৬৭ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলা আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কলা চাষ হচ্ছে মধুপুরে। মধুপুরের জলযত্রে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসেন কলা কিনতে। এখানে প্রায় কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়। টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চাষীদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেয়া হয়।’