বাজারে দুই ধরনের গরুর মাংস

ডেইরি/
দেশ রূপান্তর

(২ মাস আগে) ৫ ডিসেম্বর ২০২৩, মঙ্গলবার, ১২:০০ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৪ অপরাহ্ন

agribarta

হঠাৎ করে রাজধানীর বাজারগুলোতে গরুর মাংসের দাম কমে গেছে বলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। কোথায়ও ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি হচ্ছে। আবার কোথাও ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এভাবে একেক জায়গায় একেক দামে মাংস বিক্রি হওয়ায় ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। সেজন্য মাংসের দাম সমন্বয়ে গতকাল রবিবার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় বসে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সভায় মাংস ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় হট্টগোল করেন।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, দুই ধরনের বা মানের গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত দামের থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমে প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যে মাংস, তাতে ৩০০-৩৫০ গ্রাম হাড় ও চর্বি মেশানো থাকে। তাছাড়া আগের মতো ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করা মাংসে হাড়-চর্বির পরিমাণ খুব সামান্য বা থাকেই না।

কম দামে মাংস বিক্রির পক্ষে যুক্তি দিয়ে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, কোরবানি ঈদের পর থেকে দেশে গরুর দাম কমেছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, কয়েক বছরে দেশে চাহিদা থেকে গরু উৎপাদন বেশি হয়েছে। তাছাড়া কোরবানির ঈদে প্রায় ১০ লাখ গরু অবিক্রীত থেকে গেছে। যার কারণে খামারিরা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কম লাভে বাজারে গরু ছাড়ছেন। ফলে বাজারে মাংসের দাম কিছুটা কমেছে।

দেখুন ভিডিও, দেশের বাজারে ভারতের মহিষের মাংস | চাহিদা বাড়ছে ফ্রোজেন মাংসের

গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৬৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রতি কেজি গরুর মাংসে আংশিক চামড়া ও পাকস্থলীর চর্বি ১৫০ গ্রাম, ভালো চর্বি ১০০ গ্রাম ও ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম খুরাসহ গরুর অন্যান্য অঙ্গের হাড় মেশানো থাকে। কারও কারও দাবি, এ দরে বিক্রি হওয়া মাংস চোরাই পথে ভারত থেকে আসা।

মাংস ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাজারে গরুর দাম কমায় আমরাও কম দামে মাংস বিক্রি করতে পারছি। প্রতি গরুতে অন্তত ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা কমেছে। তাছাড়া ৮০০ টাকা কেজিতে মাঝারি মানের একটা গরুর মাংস বিক্রি করতে দুদিন লাগত। বর্তমানে মাংসের দাম কম হওয়ায় প্রতিদিন তিন-চারটা গরুর মাংস বিক্রি হয়। এতে করে বেশি বিক্রি হয়, ৬৫০ টাকায় মাংস বিক্রি করে আগের মতোই লাভ করা যাচ্ছে।

খামারিদের সঙ্গে কথা হলে তারা দাবি করেন, বর্ষা মৌসুমে গবাদি পশু পালন ব্যয়বহুল। চারদিকে পানি থাকায় পশুর খাদ্যের ঘাসের জোগান দেওয়া কঠিন হয়ে থাকে। ফলে অধিকাংশ খামারি বাজারের খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। সেই তুলনায় শীতকালে উৎপাদন খরচ অনেকটা কম।

নওগাঁর খামারি সিয়াম মাহমুদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে খড় পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে অনেকটা বাজার থেকে দানাদার খাদ্য কিনে খাওয়াতে হয়। কিন্তু ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতে কোম্পানিগুলো দানাদার খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে করে প্রত্যেক খামারির পশু পালনে কয়েকগুণ খরচ বেড়ে গেছে। শীত মৌসুম আসন্ন। এখন তারা কম টাকায় গো-খাদ্যের জোগান দিতে পারছেন।

হঠাৎ করে বাজারে গরুর মাংসের দাম কমে যাওয়ার বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, মূলত গত বছর প্রায় ২০ লাখ কোরবানির পশু অবিক্রীত থাকায় তখন থেকে গরুর দাম কমতে শুরু করেছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে উচ্চমূল্যে প্রতি কেজি গরুর মাংস প্রায় ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে আসছিল। এতে করে দেশের অনেক মানুষের মাংস কেনার ক্ষমতা হারায়। আবার একশ্রেণির মানুষ মাংস কেনা থেকে বিরত থাকেন। সব মিলিয়ে যখন বাজারে মাংসের চাহিদা কমে যায় তখন বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা কম দামে মাংস বিক্রি করতে শুরু করেছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশের গরুর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩৪ লাখ। উৎপাদন বেড়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেই সংখ্যা ২ কোটি ৪৮ লাখ ৫৬ হাজারে উন্নীত হয়। অর্থাৎ গেল ১০ বছরে দেশে গরু উৎপাদন বেড়েছে ৬ শতাংশের একটু বেশি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (খামার শাখা) উপপরিচালক শরিফুল হক বলেন, দেশে গবাদি পশু উৎপাদন বৃদ্ধি ও এর লালন-পালন খরচ সহনীয় পর্যায়ে আসায় গরুর দাম কমতে শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মাংস ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগামীতে আরও কমে আসবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সারা দেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিবন্ধনকৃত ৮৮ হাজার ৭৭টি গবাদি পশু উৎপাদনের বাণিজ্যিক খামার রয়েছে। এতে ২ কোটি ৪৮ লাখ ৫৬ হাজার পশু রয়েছে। এর বাইরে আরও হাজারখানেক খামার রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব করুন এগ্রিবার্তার ইউটিউব চ্যানেল