ঢাকা, ১৭ জুন ২০২৪, সোমবার

প্রচলিত অবকাঠামো বদলে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক কাঁচাবাজার



প্রাণীসম্পদ

বাংলা ট্রিবিউন:

(১ মাস আগে) ১৬ মে ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ২:১৩ অপরাহ্ন

agribarta

দেশের কাঁচাবাজার মানেই কাদা-পানি, আবর্জনা আর দূর্গন্ধে ভরপুর এক স্থান। বাজার গুলোতে হরহামেশাই দেখা যায় এমন সাধারণ চিত্র। গ্রীষ্মকালে কিছুটা শুকনো থাকলেও বর্ষা মৌসুমে বাজার করা মানেই কাদা-পানি ডিঙ্গিয়ে কাপড় ময়লা করা। তবে প্রচলিত এই বাজার অবকাঠামোয় পরিবর্তন আনছে সরকার। নতুন বাজারে থাকবে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা। বিক্রীত পণ্য হবে স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) আওতায় পরিচ্ছন্ন, খোলামেলা ও প্রশস্ত কাঁচাবাজার নির্মাণের (উন্নয়ন) উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। প্রথম ধাপে নির্মান হবে ১৪০টি কাঁচাবাজার। পর্যায়ক্রমে দেশের সবখানে গড়ে উঠবে এ ধরনের বাজার। 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) আওতায় সারা দেশে জলবায়ু সহিষ্ণু কাঁচাবাজার নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা সদর, উপজেলা সদর, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ১৪০টি কাঁচাবাজারের নির্মাণকাজ চলছে। পাঁচটি বাজারকে একত্রিত করে একটি প্যাকেজ ধরে নির্মাণকাজ পরিচালনার জন্য ১০ কোটি টাকা করে দরপত্র আহ্বান করে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। এ হিসাবে প্রতিটি কাঁচাবাজার নির্মাণে ২ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিটি বাজারে থাকছে একাধিক শেড। আধুনিক মডেলের টিনশেডের অবকাঠামোটি পুরোটাই হবে টাইলস দিয়ে ঘেরা। থাকবে পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ।

এ সম্পর্কে এলডিডিপি প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) প্রকৌশলী পার্থ প্রদীপ সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিশেষ করে পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আপাতত ১৪০টি কাঁচাবাজার উন্নয়নের কাজ চলছে। নতুন কোনও স্থানে নয়, আগের ভাঙাচোরা, নোংরা, বাজারগুলোকেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হচ্ছে। বিদ্যমান ভাঙা অবকাঠামো সরিয়ে সেখানে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক অবকাঠামো।

তিনি বলেন, টিনশেড হলেও সেখানে থাকছে তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপযোগী চালা। নিচের অবকাঠামো ইটের, ফ্লোর টাইলসের। বাজার বলা হলেও মূলত এসব দোকানে প্রাণিজ পণ্য, বিশেষ করে গরু, খাসির মাংস, ডিম ও মুরগি বিক্রি হবে।

গরু ও খাসির মাংস বিক্রির দোকানের চারপাশ খোলা হলেও ডিম-মুরগির দোকানে চারপাশের দেওয়ালসহ থাকছে শাটার। মুরগির দোকানগুলোর শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি মাংসের দোকানের কোনায় কোনায় থাকবে হাত ধোয়ার বেসিনসহ পানির লাইন যাতে মাংসের রক্ত-আবর্জনায় পরিবেশ নষ্ট না হয়। এর বাইরেও তাৎক্ষণিক ধোয়ামোছার জন্য টিনশেড অবকাঠামোর বিভিন্ন পয়েন্টে পানির কল রাখা হয়েছে।

বাজারে আসা নারী-পুরুষ ক্রেতাদের জন্য পৃথক ওয়াশ রুম থাকছে জানিয়ে পার্থ প্রদীপ সরকার আরও বলেন, দিনের বেলায় সূর্যের আলো ধরে রাখতে বাজারের চালের ওপর স্থাপন করা হচ্ছে সোলার প্যানেল। উৎপাদিত বিদ্যুৎ মূল লাইন দিয়ে পৃথক লাইনের মাধ্যমে বাজারে সংযোগ করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সেভাবেই চুক্তি হয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগের।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এ রকম বাজারে ব্যাটারি সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ অনেকটা কঠিন বলে আমরা সেখানে আইপিএস না রেখে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা পারমিট করেছি। বাজারের এক শেড থেকে আরেক শেডে যাওয়ার জন্য নির্মাণ করা হবে অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক। থাকবে বৃষ্টির ও ব্যবহারের অতিরিক্ত পানি সরে যাওয়ার জন্য অভ্যন্তরীণ ড্রেন।