বসন্ত এসে পড়েছে শেকৃবিতে

ক্যাম্পাস/
এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(১ সপ্তাহ আগে) ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, রবিবার, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৩:৫৮ অপরাহ্ন

agribarta

মাঘের শীত কাটতে না কাটতেই উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করেছে ঋতুরাজ। দেশজুড়ে বইছে বসন্তের আগমনী আমেজ। কিন্তু ইটপাথরের রুক্ষ ঢাকায় প্রকৃতিপ্রেমীরাও ইতিউতি তাকিয়ে খোঁজেন আর মনে মনে বলেন, কোথায় পাব তারে! আপাতত বসন্তের দেখা মিলবে রাজধানীর ‘ছোট গ্রাম’খ্যাত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই স্বাগত জানাবে ছোট ছোট গাছের নতুন কুঁড়িরা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন চত্বর আর রাস্তার পাশে দেদার পিটুনিয়া, নাগলিঙ্গম, গাঁদা। বুনো ফুলেরও নাম-ধাম গুনে যেন শেষ করা যাবে না। ক্যাম্পাসের আঙিনাতেও বাহারি ফুল। ঢুকলেই নাকে এসে লাগবে মিশ্র সৌরভ। যেন একটুও বাকি নেই বসন্তের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির পক্ষে ফুল গাছগুলো লাগানো ও পরিচর্যার সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইনস্টিটিউট অব সিড টেকনোলজির উপপরিচালক এবং সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির সদস্য মো. ইব্রাহীম খলিল খান। তার তত্ত্বাবধায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত মালীরা নিয়মিত ফুলের পরিচর্যা করে থাকেন। তিনি জানালেন, শেকৃবিতে এখন ১৭ প্রজাতির বেশি ফুলগাছ আছে। চায়না গাঁদা, ইনকা গাঁদা, ডালিয়া, স্যালভিয়া, ডায়ান্থাস, পিটুনিয়া, হলিহক, সূর্যমুখী, কসমস, চন্দ্রমল্লিকা, পপি, ন্যাস্টারশিয়াম, এস্টার, স্নোবল, জিনিয়া ও ক্যালেনডুলা। এগুলো অবশ্য শীতকালীন ফুলও।

স্নাতকোত্তরে পড়ুয়া প্রান্তিক সৌরভ বললেন, ‘বায়ুমান সূচকে ঢাকা তো প্রায় প্রতিদিনই সবার পেছনে থাকে। এখানে বিশুদ্ধ বাতাসে বুকভরে শ্বাস নেওয়াটাই বিশাল ব্যাপার। সেই হিসেবে আমাদের এই ক্যাম্পাসকে বলা যায় ভূস্বর্গ। অন্য জাতের কথা বাদই দিলাম, শুধু তাজা গাঁদা ফুলের ঘ্রাণ পেলেই তো মনে হয় এই বেশ ভালো আছি। ক্যাম্পাসভিত্তিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানা আয়োজন লেগে থাকবে বসন্তজুড়ে। তবে আমাদের দেশে এই বসন্তকে সেভাবে উদযাপন করতে দেখি না। ষড়ঋতুর দেশের গর্বিত শিক্ষার্থী হিসেবে এই ঋতুর উদযাপনকে সাংস্কৃতিক কর্তব্য বলে মনে করি আমি।’

স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত অনিন্দিতা বসু বলেন, ‘বসন্তের বিশেষত্ব হলো জীর্ণতা ছেড়ে নতুন উদ্যমে বেড়ে ওঠা। প্রকৃতি চলে নিজস্ব গতিতে। আর বসন্ত যেন প্রকৃতির একটুখানি বিশ্রাম। রাজধানীতে বসন্ত যেন এই ৮৭ একরের ক্যাম্পাসেই বেড়াতে আসে। শেকৃবির মাঠজুড়ে ফসলের সুমিষ্ট ঘ্রাণও বসন্তকে বরণ করে নেয়।

ইব্রাহীম খলিল খান জানান, যেহেতু এটি একটি কৃষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন ফুল, ফল ও ফসলের নানা জাত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আরও বেশি জাতের গাছ এখানে লাগাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা হাতেকলমে শিখতে পারে।

শিক্ষার্থী এস এম রিফাত আমিন বলেন, ‘ক্যাম্পাসজুড়ে এখন কোকিলের ডাকও শোনা যাচ্ছে। ফুল আর পাখি মিলিয়ে বসন্ত চলেই এসেছে। এই যান্ত্রিক দূষণে ঢাকা নগরীতে শেকৃবি যেন একচিলতে শৈশব। এ বসন্তেই আমরা জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পাই।’

মারজানা ইসলাম সেতু বলেন, ‘বসন্ত মানে রঙের উৎসব। বছরের বিদায় হলে এভাবেই হওয়া দরকার। ক্যাম্পাস এখন রঙিন। যে পথেই যাই, ফুল দেখে থমকে দাঁড়াতেই হয়।’

এদিকে ঋতুরাজকে বরণ করতে প্রস্তুত শেকৃবির সাংস্কৃতিক সংগঠন কিষাণ থিয়েটার। সংগঠনটির সভাপতি জোসেফ মল্লিক জানান, কিষাণ থিয়েটার প্রতিবারই বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করে বসন্তকে। এ বছরও ব্যতিক্রম হবে না। রংবেরঙের ফুল আর বাঙালি সংস্কৃতির হরেক উপাদানে ক্যাম্পাস আঙিনা সাজানোর মাধ্যমে প্রস্তুতি চলছে।