১২ হাজারে শুরু, দুটি নার্সারির মালিক তাহসিন

ক্যারিয়ার/
জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর

(১ সপ্তাহ আগে) ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সোমবার, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন

agribarta

চারদিক কুয়াশাচ্ছন্ন। শীতের বাতাসে ফুল ও লতা-পাতার ঘ্রাণ। এরই মাঝে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। রোদ-বৃষ্টি-শীত এখন তার নিত্যদিনের সঙ্গী। বলছিলাম তাহসিন আহমেদের কথা। তিনি বলেন, ‘সবুজের মাঝে পরিশ্রমে শান্তি খুঁজে পাই।’ দেখা যায়, গোলাপ, গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, স্নোবল, ডানিংটাচ, কোটালিকা, ল্যান্টানা, নয়নতারাসহ বাহারি ফুল গাছের সমারোহ। লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি, সাদা, গোলাপি রঙের সমারোহ চারপাশে। যেন রঙের মেলা। আছে দৃষ্টিনন্দন ক্যাকটাস।

দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে বাণিজ্যিকভাবে নার্সারি গড়ে তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন। সৃষ্টি করেছেন অন্যদের কর্মসংস্থান। উচ্চ ফলনশীল দেশি-বিদেশি ফুল, ফল, সবজি, ওষধি গাছ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করে সাড়া ফেলে দিয়েছে তার নার্সারি। নার্সারিটি বাংলামোটর সংলগ্ন জহুরা স্কয়ার মার্কেটের উত্তর পাশে।

তাহসিন আহমেদ জানান, ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ভাগ্য অন্বেষণে ঢাকা আসেন। রাজধানীর বুকে কয়েক মাস চাকরি করেছেন। তখনই ঠিক করেছিলেন নার্সারি করবেন। পরিকল্পনামতো টাকা জমাতে থাকেন। কয়েক মাসের চেষ্টায় মাত্র ১২ হাজার টাকা দিয়ে বড় বোনের নামে গড়ে তোলেন ‘রুমা নার্সারি’।

শুরুর দিকে ছোট পরিসরে হলেও এখন তাহসিনের দুটি নার্সারি। একটি বাংলামোটর হলেও অপরটি হাজারীবাগ ম্যাটাডোর কোম্পানির সামনে। অন্য গাছের পাশাপাশি রং-বেরঙের ফুলের গাছ দিয়ে সাজানো এ নার্সারি নজর কাড়ে সবার। তবে কোনোরকম অনলাইনসেবার ব্যবস্থা রাখেননি তিনি।

তরুণ ব্যবসায়ী তাহসিন নানা অসুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘অনলাইনে আমি যে জাতের গাছের ছবি আপলোড করবো, ক্রেতা সেই হুবহু গাছ চান। কিন্তু প্রতিটি জাতের গাছ দেখতে ও বৃদ্ধি তো সমান না। এখন যেই জাতের গাছ চাইবে, সেটা দেওয়া সম্ভব হলেও ফেসবুক পেজে আপলোড করা গাছ হুবহু দেওয়া সব সময় সম্ভব না। কারণ আমাদের বেচা-কেনার ভেতরেই থাকতে হয়। ক্রেতারা যেন বিভ্রান্ত না হয়, তাই সশরীরে এসে দেখে কিনে নিয়ে যায়, এটাই ভালো। বেশি পরিমাণে কিনলে, নিতে অসুবিধা হলে আমরা হোম ডেলিভারি দিয়ে আসি।’

ক্রেতাদের সন্তুষ্টির কথা মাথায় রেখে প্রায় সব ধরনের গাছের সরবরাহ রেখেছেন তিনি। তাহসিন আহমেদ বলেন, ‘আমার এখানে প্রায় সব ধরনের গাছের সরবরাহ রাখতে হয়। কারণ ক্রেতাদের সন্তুষ্টি আমার প্রথম লক্ষ্য। ইনডোর, আউটডোরের পাশাপাশি লতাপাতা জাতীয় উদ্ভিদের সন্ধানও আমার নার্সারিতে সকলে পাবে। তবে আকার, প্রজাতি ও গুণমান ভেদে এসব গাছের একেকটির দাম একেক রকম।’

বিভিন্ন জাতের গাছ কোথা থেকে সংগ্রহ করেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্রেতাদের সন্তুষ্টির জন্যই গাছগুলো কষ্ট হলেও সংগ্রহ করে রাখি। কারণ ক্রেতা একবার খুশি হলে দ্বিতীয়বার আসবে। আর গাছগুলো আমি সচরাচর সাভার, কাপাসিয়া, যশোর এসব জেলা থেকে সংগ্রহ করি। এক জায়গায় তো সব গাছ পাওয়া যায় না।’

রুমা নার্সারিতে ফুলের চারা কিনতে আসা ক্রেতা অনিক বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এ নার্সারি থেকে বিভিন্ন ইনডোর, আউটডোর, ফুল-ফলের চারা, সবজির বীজ-গাছ কিনতে আসি। এখন পর্যন্ত যত চারাগাছ, বীজ কিনেছি; সব কয়টি থেকে ভালো ফলন পেয়েছি। কোনোটি খারাপ হয়নি। নার্সারি থেকেও ধারণা দেওয়া হয় গাছগুলোর যত্নে কী কী করতে হবে। সব মিলিয়ে এ নার্সারি এখন আমার বিশ্বাসের জায়গা।’

নার্সারির গাছপালার যত্নে কী ব্যবহার করেন, জানতে চাইলে তাহসিন বলেন, ‘৭০ শতাংশ জৈব সার ও ৩০ শতাংশ রাসায়নিক সার ব্যবহার করি। এখন প্রশ্ন থাকতে পারে, জৈব সার খুব ভালো তা-ও ৩০ শতাংশ রাসায়নিক সার কেন ব্যবহার করি! এর কারণ হচ্ছে, সামান্য পরিমাণে রাসায়নিক সার না দিলে গাছের যে ফুল সেগুলো পরিপক্ব হবে না, গাছ বৃদ্ধি হবে না।’

নার্সারি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা আছে নার্সারির ব্যবসা আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার। দুটি নার্সারি থাকলেও আরও একটি করার পরিকল্পনা আছে। পাশাপাশি সবার প্রতি আহ্বান থাকবে, বাসার ছাদ কিংবা বারান্দায় সামান্যতম জায়গা থাকলেও বাগান গড়ে তুলুন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এটি ভীষণ প্রয়োজন।’