বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমি গত বছর বলেছিলাম কৃষি গুচ্ছ থেকে বাকৃবিকে বের করে নিয়ে আসার কথা। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে এবং সরকারও আমাদের কাছে চায় আমরা কৃষি গুচ্ছে থাকি। কৃষি গুচ্ছভুক্ত নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে সুন্দরভাবে অপারেট করছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের অনেক উপকার হয়েছে, এটা যেমন সত্য, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তারতম্য থাকার জন্য ভর্তি কার্যক্রম শেষ হতে চার-পাঁচ মাস সময় লেগে যায়, এগুলো কষ্ট।
সরকার এবং বিশেষত অভিভাবকদের আকাঙ্খার দিকটি সম্মান দেখিয়ে আমরা এবছর গুচ্ছ থেকে বের হতে পারলাম না। তবে গুচ্ছ থেকে বের হতে পারিনি দেখে আমাদের যে জাত-ধর্ম গেল, সেটিও নয়। আমাদের যদি শিক্ষার মান, মর্যাদার গুরুত্ব থাকে, ভালো ছেলেমেয়েরা অবশ্যই আসবে এখানে। আমরা সেটার ওপর ছেড়ে দিলাম।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি গুচ্ছের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শন শেষে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আমরা প্রাচীন, এই অবস্থায় আমরা বের হয়ে গেলে গুচ্ছটা নষ্ট হয়ে যাবে, তখন দোষটা আমাদের ওপর আসবে। গুচ্ছের ভুল ত্রুটিগুলো শুধরে সামনে কিভাবে আরও গতিশীল করা যায়, সেটির জন্য আমরা কাজ করবো। উন্নত দেশগুলোর মতো কিভাবে সবগুলো সেক্টরের জন্য একটি ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যায়, সে বিষয়েও সরকার ভাবছে বলে জানান উপাচার্য।
এর আগে দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সারাদেশের গুচ্ছভুক্ত ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২০টি কেন্দ্রে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাকৃবির ছয়টি অনুষদের আওতাধীন বিভিন্ন একাডেমিক ভবনসহ ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্কুল ও কলেজে নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাকৃবি কেন্দ্রে ২২টি অঞ্চলে ২৪১টি কক্ষে মোট ১২ হাজার ৪২৭ জন পরীক্ষার্থীর জন্য আসন ব্যবস্থাপনা করা হয়। বাকৃবি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১১ হাজার ১৬১ জন। এতে উপস্থিতির হার ছিল ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, কৃষি গুচ্ছভুক্ত নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৩ হাজার ৭০১টি আসনের বিপরীতে ৮৮ হাজার ২২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন ভর্তির সুযোগ পাবেন। এবছর ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে আছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।