নীলফামারী জেলায় চলতি মৌসুমে আগাম জাতের সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। আলু চাষে গত বছরের বড় ধরনের লোকসান কাটিয়ে উঠতে এবার জেলার অনেক কৃষকই লাভজনক সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন। বর্তমানে মাঠ থেকে ফসল সংগ্রহ ও মাড়াইয়ের কাজে প্রচণ্ড ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। দিনাজপুর টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জেলায় ৯ হাজার ২৩ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর বেশি।
কৃষকরা জানান, আমন ধান কাটার আগেই ধানক্ষেতে বীজ ছিটিয়ে দেওয়ার ‘সিক্ত পদ্ধতি’ এবং আধুনিক বারী-১৪, ১৫ ও ১৮ জাত ব্যবহারের কারণে খরচ অনেক কম হয়েছে।
সদর উপজেলার কৃষক মোসফিকুর রহমান জানান, সরিষা থেকে শুধু তেলের চাহিদাই মেটে না, এর গাছ জ্বালানি হিসেবেও চমৎকার কাজ করে। নারী উদ্যোক্তা শামিমা নাসরিনের মতে, বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬ মণ ফলন হওয়ায় সরিষা এখন আলুর চেয়েও বেশি লাভজনক।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি প্রণোদনা হিসেবে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার উৎপাদন প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। স্বল্প সময়ে ও অল্প খরচে সরিষা আবাদ এই অঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছে।
