ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার

বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রম বাস্তবায়নের তালিকায় বাকৃবি উপাচার্যসহ একাধিক শিক্ষক



ক্যাম্পাস

বাকৃবি প্রতিনিধি

(৬ দিন আগে) ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার, ৯:০৬ পূর্বাহ্ন

agribarta

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পেশাজীবী সংগঠন ‘এগ্রিকালচারিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’(এ্যাব) এর কেন্দ্রীয় কমিটির একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। ওই তালিকায় সদস্য পদে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের নাম রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। জানা যায়, সম্প্রতি এ্যাবের আহবায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার ও সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফিক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এর কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ্যাবের পক্ষ থেকে কৃষিবিদদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে সদস্য পদে বাকৃবি উপাচার্য ছাড়াও আরও রয়েছেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো আসাদুজ্জামান সরকার, বাকৃিবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সোনালী দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ দাবি করেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা বিদ্যমান আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধির আলোকে কীভাবে দেখা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন। বিশেষ করে উপাচার্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তির নাম এমন একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটিতে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলেও মনে করছেন তারা। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, 'কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে কিংবা কোনোভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবেন না অথবা বাংলাদেশে বা বিদেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ বা কোনো প্রকার সহযোগিতা করতে পারবেন না।' তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উপাচার্যরা সরাসরি সরকারি কর্মচারীর সংজ্ঞার আওতায় পড়েন কি না- এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন (সংশোধনী) অনুযায়ী- দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার কোন সুযোগ নেই বলে দাবি করছেন কেউ কেউ। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এ্যাবের কমিটিতে নিজের নাম থাকার বিষয়ে অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, 'আমি আগে এ্যাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। বর্তমানে এর কার্যক্রমের সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত নই। এ্যাব কর্তৃপক্ষ আমার নাম দিয়েছে, তবে এ বিষয়ে আমার সঙ্গে সেভাবে আলোচনা হয়নি।' তিনি আরও বলেন, 'আমি এখন একটি সরকারি দায়িত্বে আছি। এই অবস্থান থেকে এ্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয় এবং আমি থাকবও না। বিষয়টি আমি তাদের জানিয়ে দেব।' তবে এ্যাবকে কোন রাজনৈতিক দলের অংগসংগঠন নয় বলে দাবি করেছেন কমিটিতে স্থানপ্রাপ্ত অপর দুইজন শিক্ষক। অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসান বলেন, 'এ্যাব কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন নয়। এটি একটি জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী সংগঠন।' অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, 'ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য এ্যাব এই কেন্দ্রীয় কমিটি করেছে। এটি তাদের মূল কোনো কমিটি না। এ্যাব একটি সম্পূর্ণ পেশাজীবি সংগঠন। এখানে ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও আছেন। রাজনৈতিক সংগঠন বা অঙ্গসংগঠন হলে তাদের এখানে যুক্ত থাকার কোনো সুযোগ ই ছিলো না।' এদিকে এ্যাব একটি পেশাজীবি রাজনৈতিক সংগঠন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. কামরুজ্জামান কায়সার। তিনি বলেন, 'এ্যাব একটি পেশাজীবী রাজনৈতিক সংগঠন। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, সম্প্রসারণ কর্মকর্তাসহ জাতীয়তাবাদী চেতনার কৃষিবিদরা যুক্ত আছেন। নির্বাচন মনিটরিং কার্যক্রমে আমরা সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে কাজ করছি।' তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরাসরি সরকারি চাকরিজীবী নন। তাই তাঁরা এই কমিটিতে থাকতে পারেন। সদস্যদের পূর্ববর্তী পদ ও কার্যক্রমের ভিত্তিতেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।' নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রমে উপাচার্য ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'নির্বাচনী কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য উপাচার্য ও অন্যান্য শিক্ষকদের উপদেষ্টা পর্যায়ে রাখা হয়েছে।' 
 

ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ