ঢাকা, ৩ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার

বঙ্গোপসাগরে আশঙ্কাজনক হারে কমছে মাছ, সংকটে জেলে-ব্যবসায়ীরা



কৃষি

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(২ দিন আগে) ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শনিবার, ৯:৪০ অপরাহ্ন

agribarta

বঙ্গোপসাগরে আশঙ্কাজনক হারে সব প্রকার মাছ কমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন উপকূলীয় জনপদ পাথরঘাটার জেলে ও মৎস্যনির্ভর ব্যবসায়ীরা। এক থেকে দেড় লাখ টাকার জ্বালানি, বরফ ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে গভীর সাগরে গিয়েও অধিকাংশ ট্রলার ফিরছে খালি অবস্থায়। ফলে জেলেপল্লীতে নেই আসন্ন ঈদুল ফিতরের কোনো আমেজ। অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটছে বহু পরিবারের। শিশু ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসাও অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে গেছে। মাছনির্ভর এই উপজেলায় প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য আহরণের সঙ্গে জড়িত। সাগরে মাছের আকাল দেখা দেওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে। পাথরঘাটা শহরসহ উপজেলার ছোট-বড় বাজারগুলোতে নেই বেচাকেনা। ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা।

ট্রলার মালিক, জেলে ও মৎস্য আড়ৎদার, মৎস্য পাইকারদের অভিযোগ, গভীর সাগরে অবৈধ ট্রলিং এবং ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে ছোট-বড় মাছ শিকার করার কারণে মাছের প্রজনন চক্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে মাছশূন্য হয়ে পড়ছে বঙ্গোপসাগর।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দুলাল মাস্টার অভিযোগ করেন, ভারতীয় আধুনিক ট্রলিং জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। তিনি আরও বলেন, গভীর সাগরে এসব অবৈধ ট্রলার বন্ধ করা না হলে অচিরেই মাছশূন্য হয়ে পড়বে বঙ্গোপসাগর। তখন সাধারণ জেলেরা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়বেন। অন্যদিকে, বাজারে ক্রেতা না থাকায় দোকানদারদের মধ্যে একপ্রকার হাহাকার দেখা দিয়েছে। তবে ভিন্ন চিত্র স্বর্ণের দোকানগুলোতে। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষ যার যেটুকু স্বর্ণ আছে তা বিক্রি কিংবা বন্ধক রেখে সংসার চালাচ্ছেন। পাথরঘাটা শহর ও আশপাশের বাজারগুলোতে শতাধিক স্বর্ণের দোকানে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বর্ণ বিক্রি ও বন্ধক রাখার জন্য মানুষের লাইন দেখা যাচ্ছে।

পাথরঘাটা উপজেলা বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. নূরে আলম বলেন, ৪০-৪৫ বছর ধরে কাপড়ের ব্যবসা করছি। কিন্তু ঈদ সামনে রেখে এত কম বেচাকেনা জীবনে দেখিনি। মানুষের হাতে টাকা নেই, যার কারণে কেনাকাটা করতে পারছে না।

পাথরঘাটা উপজেলা স্বর্ণকার সমিতির সভাপতি অরুণ কর্মকার বলেন, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাধারণত স্বর্ণ কেনার চাপ থাকে। কিন্তু এবার উলটো চিত্র। মানুষ স্বর্ণ বিক্রি ও বন্ধক রাখছে বেশি। এতে বোঝা যায় তারা কতটা কষ্টে আছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সাগরে মাছের আকাল অব্যাহত থাকলে পাথরঘাটা উপজেলায় মানুষের কষ্ট আরও বাড়ছে। দ্রুত অবৈধ ট্রলিং বন্ধ ও জলসীমায় কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে জেলেদের জন্য প্রণোদনা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, অবৈধ ট্রলিং ট্রলারে ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করে। এতে প্রজনন চক্র ব্যাহত হয়ে সাগরে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। বর্তমানে জেলেরা সাগরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দেখা তো পানই না, বরং ইলিশের ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা মেলেনি।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ ট্রলিং ট্রলার নিষিদ্ধের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি, স্মারকলিপি দিয়েছি এবং পাথরঘাটা শহরে বিভিন্ন সময়ে মিছিল, মানববন্ধন ও মিটিং করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্যবন্দর পাথরঘাটা বিএফডিসির ব্যবস্থাপক লে. কমান্ডার জি এম মাসুম সিকদার বলেন, সাগরে মাছ কমে যাওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে রাজস্ব কম আদায় হয়েছে। গত বছর রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা। চলতি বছর তা কমে আদায় হয়েছে ১ কেটি ৪১ লাখ ১২ হাজার ৭৫৩ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম।

 

(সূত্র- ইত্তেফাক)

কৃষি থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ