ঢাকা, ৮ মে ২০২৬, শুক্রবার

ইরান–ইসরাইল–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: বৈশ্বিক কৃষিতে বিপর্যয়ের ছায়া



গবেষণা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক


Deprecated: Creation of dynamic property DateInterval::$w is deprecated in /home/agribart/public_html/func/common-func.php on line 63

(২ মাস আগে) ৩ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার, ৪:৫৯ অপরাহ্ন

agribarta

ইরান–ইসরাইল ও আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য বা চলমান সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক কৃষি খাতে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলতে পারে। এই তিনটি দেশ সরাসরি বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদনের শীর্ষে না থাকলেও অঞ্চলগত স্থিতিশীলতা, জ্বালানি বাজার, সার সরবরাহ ও বাণিজ্যিক রুটের ওপর তাদের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষ—দুইভাবেই কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

প্রথমত, ইরানে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশটি গম, যব, চাল, খেজুর ও পিস্তাচিও উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হলে অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে। সেচব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পরিবহন নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফসল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ বাধাগ্রস্ত হবে। এছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কৃষি শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতা ও জ্বালানির ঘাটতি উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ইসরাইল উন্নত কৃষি প্রযুক্তি, ড্রিপ ইরিগেশন ও উচ্চফলনশীল বীজ উদ্ভাবনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। দেশটির কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি রপ্তানি অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি সংঘাতের কারণে গবেষণা কার্যক্রম বা প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যাহত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে শুষ্ক ও খরাপ্রবণ অঞ্চলে ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত সহায়তা কমে যেতে পারে।

তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক কৃষি ও খাদ্য রপ্তানির অন্যতম প্রধান শক্তি। যদিও যুদ্ধ সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ডে না-ও ঘটতে পারে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের সামরিক সম্পৃক্ততা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য তেল উৎপাদনের কেন্দ্র হওয়ায়, সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি কৃষি উৎপাদন খরচ বাড়ায়—কারণ ট্র্যাক্টর, সেচ পাম্প, সার কারখানা ও পরিবহন সবই জ্বালানিনির্ভর। ফলে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

চতুর্থত, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট। যদি Strait of Hormuz এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়, তাহলে শস্য, সার ও খাদ্যপণ্য পরিবহন ব্যাহত হতে পারে। একইভাবে, লোহিত সাগর ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর প্রভাব এশিয়া ও আফ্রিকার খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে তীব্র হবে।

পঞ্চমত, সার বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ইরান গ্যাসসমৃদ্ধ দেশ হওয়ায় নাইট্রোজেনভিত্তিক সার উৎপাদনে সক্ষম। যুদ্ধের ফলে উৎপাদন বা রপ্তানি কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বাড়বে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে এবং ক্ষুদ্র কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে এই প্রভাব আরও প্রকট হতে পারে। জ্বালানি, সার ও গমের দাম বাড়লে কৃষি খরচ ও খাদ্যমূল্য উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।

সার্বিকভাবে, ইরান–ইসরাইল–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুধু সামরিক সংঘাত নয়; এটি বৈশ্বিক কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই কূটনৈতিক সমাধান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থার স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি।

গবেষণা থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

agribarta
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
মৎস্য আহরণকারীরা কৃষক কার্ডের আওতায় আসবেন