যমুনা সার কারখানায় যান্ত্রিক ত্রুটি, উৎপাদন বন্ধ

সমকালীন কৃষি/

(৫ দিন আগে) ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার, ৮:১২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

agribarta

দেশের সর্ববৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় (জেএফসিএল) যান্ত্রিক ত্রুটিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ভুল বাটনে চাপ লেগে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে কারখানা সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনা তদন্তে গতকাল সকালে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় পরিদর্শকের সঙ্গে থাকা মো. আফাজ উদ্দিনকে তদন্ত কমিটির প্রধান ও ভূপতি চন্দ্র বিশ্বাসকে সদস্য রাখা হয়েছে।

কারখানা সূত্র জানায়, সম্প্রতি যমুনা সার কারখানার অ্যামোনিয়া প্লান্টের এনজি বুস্টার কমপ্রেসারে মাত্রাতিরিক্ত নাইট্রোজেন অপচয়সহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। কর্তৃপক্ষ এনজি বুস্টার ক্রয় ও পুনঃস্থাপনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি ইনগার্সল-রেন্ড (ইন্ডিয়া) লিমিটেডকে অবহিত করে। পরে ইনগার্সল-রেন্ড কর্তৃপক্ষ কারখানা পরিদর্শনে তাদের ডেপুটি ম্যানেজার (সার্ভিস) ও ভারতীয় বিশেষজ্ঞ তানাজি এস পন্দেকারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম পাঠায়। ওই টিমের অন্য দুই সদস্য হলেন ইনগার্সল-রেন্ড’র টেরিটরি ম্যানেজার (সার্ভিস) মো. ইমামুল সরদার এবং মার্কেটিং প্রতিনিধি কসমো মার্কেটিং কনসালট্যান্টস প্রাইভেট লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম।

কারখানার নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ভারতীয় বিশেষজ্ঞ তানাজি এস পন্দেকার রোববার বিকালে কারখানার অ্যামোনিয়া প্লান্টের এনজি বুস্টার কমপ্রেসারের বিভিন্ন প্যারামিটার পরিদর্শন করছিলেন। এ সময় তিনি একটি ভুল বাটনে চাপ দিলে বিকট আওয়াজে অ্যামোনিয়া প্লান্ট বন্ধ হয়ে যায়। এতে মুহূর্তেই ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

বিকট আওয়াজে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পাশের এলাকার লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রথমে ‘স্বাভাবিক’ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও গতকাল সকাল থেকে এলাকায় জানাজানি হয়।

এ বিষয়ে কারখানার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (এমটিএস) আফাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমিসহ কারখানার মেশিনারিজ প্রধান ভূপতি চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ তানাজি এস পন্দেকার এনজি বুস্টার কমপ্রেসারের বিভিন্ন প্যারামিটার ঘুরে দেখছিলেন। এ সময় কারখানার কিছু কর্মচারী ওভারটাইম সংশ্লিষ্ট জটিলতা নিয়ে আমার কাছে আসেন। আমি তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলছিলাম। এ সময় ভূপতি চন্দ্র বিশ্বাস অ্যামোনিয়া শিফট ইনচার্জ ফজলুল হককে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে থাকার জন্য বলেন। বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটের সময় অ্যামোনিয়া কমপ্রেসার বন্ধ হয়ে যায়। এতে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।’