পোল্ট্রি খাত সংশ্লিষ্টদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই মূলমন্ত্রে বিশ্বাস করেন। তাই দেশের সার্বিক কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসততা বরদাস্ত করা হবে না।”
আজ দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রাণিসম্পদ খাত নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পোল্ট্রি খাতে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাতকে রপ্তানিমুখী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র খামারিদের টিকিয়ে রাখা জরুরি; কারণ তারা না থাকলে বড় খামারিরাও টিকে থাকতে পারবে না। বর্তমানে প্রতি ডিম উৎপাদনে প্রায় ৯ টাকা খরচ হলেও খামারিরা ৭ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, অর্থাৎ প্রতিটি ডিমে ২ টাকা করে লোকসান হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকার ও কিছু প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আমদানি করে থাকে-এ ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি খামারি, ফিড, বাচ্চা উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোক্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো সার্বিক সহায়তা প্রদান করা এবং এ ক্ষেত্রে শতভাগ সহযোগিতা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হবে।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সভাপতি মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান এবং ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ। এতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ফিড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক।
এসময় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
