‘গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম বিভাজনের জন্য দায়ী বামপন্থী কতিপয় শিক্ষক’ - দাবি একাংশের নেতাদের

গবেষণা/
মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর, বাকৃবি প্রতিনিধি

(১ সপ্তাহ আগে) ২১ জানুয়ারি ২০২৩, শনিবার, ৭:২১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৭:২৪ অপরাহ্ন

agribarta

সরকার দলীয় সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কতিপয় বামপন্থী শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। যারা গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের নাম ব্যবহার করে আসছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।


এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের একাংশ (ড. হাদী ও ড. রমিজের নেতৃত্ব ফোরাম)। সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফোরামের ওই পক্ষটিকে ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম’ নামক দলীয় নামটি ব্যবহার না করারও দাবি জানান তারা।


বুধবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে বাকৃবির শিক্ষক কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেন মাধ্যমে এসব অভিযোগ করেন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের একাংশের (ড. হাদী ও ড. রমিজের নেতৃত্ব ফোরাম) নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু হাদী নূর আলী খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রমিজ উদ্দিন, অধ্যাপক ড. এম এ সালাম সহ সংগঠনটির শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

 

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামটি আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের একটি সংগঠন। কিন্তু সম্প্রতি ছাত্র জীবনে ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্র ইউনিয়নের সাথে জড়িত থাকা কিছু শিক্ষক এই সংগঠনে যুক্ত হয়ে বিভক্তি সৃষ্টি ও সংগঠনটির নাম ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা করছে। সংগঠনটিকে কলুষিত করতে এই সংগঠনের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন সময় বিবৃতি, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। মুখে মুখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বললেও অন্তরে বামপন্থী রাজনীতিই লালন করে তারা।


সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের একাংশের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু হাদী নূর আলী খান বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের নাম ব্যবহার করে ওই পক্ষটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তারা বিপুল ভোটে পরাজিত হয়ে আসছে। তাদের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি করেছে।আগামী মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম সমাবর্তনকে সামনে রেখে তারা বিভিন্ন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।


সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রমিজ উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পেছনে বাম আদর্শের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জড়িত ছিল। এত বছর পরেও তারা সুকৌশলে সরকারের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করতে বিভিন্ন পরিকল্পনায় ব্যস্ত। যারা আওয়ামীপন্থী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে, তাদের এই প্রচেষ্টা বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছে সহযোগিতা চান তিনি।


এ বিষয়ে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের আরেকটি অংশের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. এ. এম. ইয়াহিয়া খন্দকার বলেন, ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন। গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ আছে যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকরাই এ সংগঠনের সদস্য হতে পারবে।  এখানে কে বামপন্থী আর কে ডানপন্থী এমন কথা গঠনতন্ত্রের কোথাও উল্লেখ নেই। আমাদের সংগঠনের প্রতিটি সদস্যই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমরাই সঠিক। বরং তারাই হাইব্রিড সংগঠন। তাদের সংগঠনের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিল ছাত্রজীবনে। এছাড়াও গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম সৃষ্টিই হয়েছিল ছাত্র ইউনিয়ন সমর্থিত শিক্ষকদের নেতৃত্বে। ফোরামের অনার বোর্ডে যাদের নাম আছে তারা বেশির ভাগই ছাত্র জীবনে ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ’


অভিযোগের বিষয়ে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের আরেকটি অংশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. পূর্বা ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের অবস্থান কর্মসূচী শান্তিপূর্ণভাবে পালন করেছি। কোথাও কোনো অরাজকতা সৃষ্টির সঙ্গে আমাদের ফোরামের কেউ যুক্ত নেই। বরং ওই পক্ষের শিক্ষকরাই শিক্ষক লাঞ্ছনার মতো সত্য ঘটনাকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। সেই সাথে ছাত্র সংগঠন, কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের উস্কে দিচ্ছে অরাজকতা তৈরীর জন্য।


শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের বিভাজনের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সংগঠনটি বিভাজনের জন্য আমাদের কেউ দায়ী নয়। আমরাও চেয়েছিলাম সংগঠনটি বিভাজিত না হোক।