www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

করোনা প্রতিরোধে ডেক্সামিথাস বনাম প্রাণিজ প্রোটিন


 ডা মোঃ ইব্রাহিম খলিল    ১৭ জুন ২০২০, বুধবার, ১১:২৬   সম্পাদকীয় বিভাগ


কোভিড-১৯ করোনা গোত্রের একটি ভাইরাস। করোনা গোত্রের ভাইরাস এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা তাদের জিনগত মিউটেশনের মাধ্যমে প্রকৃতিগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে। মূলত এই বিশেষ চরিত্রটিই মানব সমাজের জন্য ভয়ঙ্কর রূপ দিয়েছে। করোনা গোত্রের ভাইরাসটি এ পৃথিবীকে নতুন রূপের কোন ভাইরাস নয়, বহুকাল ধরে এ ধরনের বিভিন্ন ভাইরাসের উপস্থিতি পৃথিবীতে বিরাজমান ছিল। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে আজ কোভিড-১৯ নামে রূপান্তরিত হয় আমাদের সামনে মরণ খেলায় মেতেছে।

সমস্ত বিশ্বের বিজ্ঞানীরা এ ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সফলতা পাওয়া সম্ভব হয়নি। অপরদিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ বিভিন্নভাবে সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল প্রকাশ করছেন, যা বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাওভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। একটা বিষয়ে সকলকে মনে রাখতে হবে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলগুলো এখনো আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক সর্বসম্মতি লাভ করতে পারেনি। এসকল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সফলতা বিভিন্ন কারণে আসতে পারে। কোন একক বা কম্বিনেশন ঔষদের কারণে ভাল ফলাফল এসেছে এটা এখনই বলা সম্ভব নয়।দুঃখের বিষয় বলতেই হয়, এসকল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশের পর অতি উৎসাহী জনতা রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত ফার্মেসি থেকে সংগ্রহ করছেন এবং ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত সেগুলো গ্রহণ করছেন। যা কিনা করোনা পরিস্থিতির চেয়েও ভয়ানক আকার ধারণ করতে পারে আমাদের শরীরের মধ্যে। মনে রাখতে হবে, এই ঔষধগুলো কোনটাই ভাইরাসের প্রতিষেধক বা প্রতিরোধক নয়।

এন্টিবায়োটিক বা আইভারমেক্টিন বা স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ভাইরাসকে মারার ক্ষমতা রাখেনা,আর যদি সেটা হয় জিনগত পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখা কোন ভাইরাস তার ক্ষেত্রে তো সেটা আরও দুরুহ একটা ব্যাপার । আমাদের মধ্যে এ সকল বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা খুবই জরুরী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রেসক্রিপশনকে অনুসরণ করে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক এর পরামর্শ ব্যতীত ঔষধ গ্রহন করা নিজেকে নিজে নিঃশেষ করে দেওয়ার নামান্তর।এসকল ঔষধ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রোগী ভেদে বিভিন্নভাবে প্রেসক্রাইব করতে পারেন। গত দুইদিন আগে ডেক্সামিথাসন জাতীয় ঔষধে করোনা ভালো হচ্ছে এই শিরোনামে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী উৎসুক জনতা ইতিমধ্যে ফার্মেসীতে লাইফ সেভিং এই ঔষধটি স্টক আউট করে দিয়েছে। যা আমাদের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে রুপ নিতে পারে।

ডেক্সামেথাসন বা স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ লাইফ সেভিং ড্রাগ এটা যেমন সত্য,আবার এটাও সত্য এসমস্ত ঔষধ রেজিস্টার্ড চিকিৎসক এর পরামর্শ ব্যতীত গ্রহণ করলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আঘাত গ্রস্থ হতে পারে। আমাদের সকলকে এ সমস্ত ঔষধের প্রতি মোহ না বাড়িয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এমন খাদ্য বেশি বেশি গ্রহণ করা ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা উচিত। মনে রাখতে হবে, কেবল আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই পারে এই শত্রুর মোকাবেলা করতে।

খাদ্যের ভিতর দুধ, মাংস ও ডিমের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা অপরিসীম। এসকল খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান শরীরের এন্টিবডি বৃদ্ধি করে ভাইরাসকে মেরে ফেলতে পারে। তাই সকলকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যসমূহ যাচাই-বাছাই পূর্বক গ্রহণ করতে হবে। করোনা থেকে বাঁচতে ডেক্সামেথাসন এর উপর ভরসা না করে দুধ,মাংস ও ডিম এর মত খাবারের উপর ভরসা করতে পারেন। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন এসকল খাদ্যদ্রব্য কেবল আপনার কাজে আসতে পারে,অন্যসব নয়। মনে রাখবেন; দুধ, মাংস ও ডিম ইমিউনু বুস্টারিং প্রডাক্ট অপরদিকে ডেক্সামিথাসন ইমিউনু সাপ্রেসিভ মেডিসিন।

লেখকঃ
ডা মোঃ ইব্রাহিম খলিল
ভেটেরিনারি সার্জন,
ডি ভি এম,
এম এস ইন এনিমেল এন্ড পোল্ট্রি নিউট্রিশন




  এ বিভাগের অন্যান্য