www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

নালিতাবাড়ীতে আখ চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা


 এস এ    ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার, ৬:৪৩   সমকালীন কৃষি  বিভাগ


শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় আখ চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। ভালো ফলন এবং লাভ বেশি হওয়ায় এবছর আখ চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৭ একর, আর আখ চাষ করা হয়েছে ১৩৬ একর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ একর জমিতে আখ চাষ বেশি। এতে ফলন উৎপাদন হয়েছে এক হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন। গতবছর অর্জন হয়েছিল ৭৪ একর জমিতে।

উপজেলার মরিচপুরান, গোবিন্দ নগর, ছিটপাড়া, নিচপাড়া, ভেদিকুড়া ও গেরাপচা এলাকার মাটি আখ চাষের উপযোগী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে পরিচিত তুলাবারং, ফুলপুরি, রৌমারী জাতের আখ চাষ করছেন। এছাড়াও কৃষি অফিস থেকে দেওয়া বিএসআরআই নামে তিনটি নতুন জাত আবাদ হয়েছে। রোগ বালাইয়ের তেমন একটা ক্ষতি না হলে, এক একরে আড়াই লক্ষাধিক টাকার আখ বিক্রয় করা যায়। উৎপাদন খরচ ৭০-৮০ হাজার টাকা বাদে একরে ২ লাখের কাছাকাছি লাভ হয়।

প্রতিদিন ভোর হলেই কৃষকরা আখ নিয়ে পৌরশহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সামনের মাঠে হাট বসান। সকাল ৯ টার মধ্যে বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়। কৃষকরা এরপর ওই জমিতেই আবার সবজি আবাদ করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

কৃষক রেজাউল করিম বলেন, আমার ২৫ শতাংশ জমিতে আখ চাষে লাভ ৪০ হাজার টাকা। এখন সবজি করার প্রস্তুতি নিয়েছি। তাতে সব খরচ বাদে আরো লাভ আসবে ১৫-২০ হাজার টাকা। ওই ২৫ শতাংশ জমি থেকে বছরে আমার লাভ হয় ৫৫-৬০ হাজার টাকা।

গোবিন্দ নগর গ্রামের মোস্তফা কামাল বলেন, আমি ১৫ কাঠা জমিতে ফুলপুরি জাতের আখ লাগিয়েছি। প্রতিদিন সকালে বাজারে নিয়ে পাইকারি ১টি আখ ১০-১২ টাকায় বিক্রি করছি। যারা কিনে নিয়ে যায়, তারা আবার খুচরা ১টি আখ বিক্রি করে ২০-২৫ টাকা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ওয়াসিফ রহমান বলেন, গত বছরের চেয়ে চলতি বছর কৃষকরা বেশি আখ চাষ করেছেন। কৃষকদের আখ চাষে উদ্ধুদ্ধ করতে কৃষি অফিস থেকে পাঁচজন কৃষকের মাঝে তিনটি নতুন জাত বিএসআরআই ৪১, ৪২ ও ৪৭ প্রদর্শন হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তাতে ফলাফল খুবই ভালো। আশা করছি আগামী বছর উৎপাদন আরো বাড়বে।




  এ বিভাগের অন্যান্য