www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

আমন ক্ষেতে মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকার সংক্রমণ, দুশ্চিন্তায় কৃষক


 এস এ    ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার, ৬:৫১   সমকালীন কৃষি  বিভাগ


মৌলভীবাজারে আমন ক্ষেতে মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকার সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে ধানের ফলন নিয়ে কৃষকেরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

কৃষকেরা বলছেন, কিছুদিন পর গাছে ধান আসার কথা। এ অবস্থায় পোকা দমনে কীটনাশক প্রয়োগ করেও ভালো ফল পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে না। ধানের গাছে লাল রং ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ১ লক্ষ ১ হাজার ২শ ৩৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ লক্ষ ১ হাজার ৪শ ২৫ হেক্টর জমিতে আমন রোপণ হয়েছে। শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে এ ধানের চারা রোপণ করা হয় এবং অগ্রাহণ-পৌষ মাসে ধান ঘরে তোলা হয়।

সরেজমিন জেলার সদর, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে দেখা যায়, আমন ধানের ক্ষেতে মাজরা পোকা আক্রমণ করেছে। এসব পোকা ধান গাছের ভেতর থেকে খাওয়া শুরু করে। যার ফলে ধানের চারার পাতা ছিদ্র হয়ে বাদামি রং ধারণ করছে। কোথায় কোথায় আবার লাল রং ধারণ করছে। পাতা মোড়ানো পোকা লম্বালম্বিভাবে মুড়িয়ে পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পাতায় সাদা লম্বা দাগ দেখা য়ায। খুব বেশি ক্ষতি করলে পাতাগুলো পুড়ে যাওয়ার মতো দেখায়।

রাজনগর উপজেলার মহলাল গ্রামের কৃষক আজাদ মিয়া, পশ্চিম ভাগ গ্রামের খায়রুল আলী, জিল্লুর রহমান, সামছুল মিয়াসহ একাধিক কৃষক বলেন, ধান গাছে পোকা ধরেছে। পোকা আক্রান্তের কারণে ধান গাছ বড় হচ্ছে না, পাতাগুলো প্রথমে হলুদ রং পরে লাল রং ধারণ করছে। কীটনাশক ছিটিয়েও কাজ হচ্ছে না। ধান নষ্ট হলে আমরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়ে যাব।

কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষক কয়ছল আহমদ, কুলাউড়া উপজেলার কৃষক আব্দুল হান্নান, রহমত আলীসহ একাধিক কৃষক বলেন, তাদের আমন ক্ষেত মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকার সংক্রমণের শিকার। কীটনাশক ছিটিয়েও এ পোকা দমন করা যাচ্ছে না। এক বিঘা জমিতে এক দফা কীটনাশক প্রয়োগে ব্যয় হচ্ছে ৫শ টাকা। ফলে উৎপাদন খরচও বাড়ছে। ফলন ভালো না হলে কী করবেন, বুঝতে পারছেন না।

রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ইফফাত আরা ইসলাম বলেন, এ সময়ে ধানের গোড়ায় পানি থাকায় পোকার কিছু আক্রমণ হয়। এক্ষেত্রে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন, কিছু কিছু এলাকায় ধানের পাতা হলুদ রং ধারণ করেছে। জমিতে পর্যাপ্ত সার, কীঠনাশক ব্যবহার করলে তা সমাধান হয়ে যাবে।




  এ বিভাগের অন্যান্য