www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকট হচ্ছে কফি বিন সংকট


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২৩ নভেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার, ৯:০৫   কৃষি অর্থনীতি  বিভাগ


নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়তে যাচ্ছেন কফিপ্রেমীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকট হচ্ছে কফি বিন সংকট। সরবরাহ কমতে থাকায় এরই মধ্যে ক্যাফে ও সুপারমার্কেটগুলোয় মূল্যবৃদ্ধির হুমকি তৈরি করেছে। ফলে স্বস্তির বদলে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে জনপ্রিয় পানীয় পণ্যটি।

বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের কফির মধ্যে সবচেয়ে মসৃণতম স্বাদের কফি অ্যারাবিকা। বৈশ্বিক কফি উৎপাদনের ৬০ শতাংশই পূরণ করে এটি। বর্তমানে এ কফির ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। চলতি বছর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিশ্বের প্রধান উৎপাদক দেশগুলোয় কফির ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পঙ্গু হয়ে পড়েছে সরবরাহ। লা নিনার কারণে আগামী বছর উৎপাদন আরো ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী কয়েক বছরেও এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অ্যারাবিকা কফির ঊর্ধ্বমুখী দাম সংকটের তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৈশ্বিক জাহাজীকরণ প্রতিবন্ধকতা এ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। ফলে যেসব দেশে চাহিদা রয়েছে সেসব দেশে কফি সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।

বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান লন্ডনভিত্তিক ইডিঅ্যান্ডএফ ম্যানের গবেষণা প্রধান কনা হক বলেন, এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি সমস্যা নয়। বস্তুত আগামী কয়েক বছর এ সংকটের ভেতর দিয়েই আমাদের যেতে হবে।

কফি রোস্টার ও খুচরা বিক্রেতাদের এখনই দাম বাড়ানো বা অপরিবর্তিত রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এর বাইরে তাদের জন্য বিকল্প অপশন হিসেবে রয়েছে রোবাস্তা কফি। অনেকে এরই মধ্যে অ্যারাবিকার পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা জাতের এ কফি ব্যবহারে ঝুঁকেছেন। রোবাস্তা কফি সাধারণত ইনস্ট্যান্ট কফি হিসেবেই ব্যবহূত হয়। তুলনামূলক বেশি ক্যাফেইন থাকায় এর স্বাদ অনেক তিক্ত হয়।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান বাজারে যে সংকট চলছে তার সূত্রপাত ব্রাজিলে। বিশ্বজুড়ে অ্যারাবিকা কফির শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ এটি। চলতি বছর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ খরা ও তুষারপাতের কবলে পড়ে লাতিন আমেরিকার এ দেশ। বিপর্যয় নামে কফি উৎপাদনে। বর্তমান উৎপাদন নিয়েই শুধু নয়, ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ চরম আকার ধারণ করেছে। উৎপাদকরা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কফি গাছ সরিয়ে নিচ্ছেন। এতে নতুন করে রোপণ করা গাছগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এসব গাছের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর বাইরে ঊর্ধ্বমুখী সারের দাম ও শ্রমিক সংকটের কারণেও উৎপাদকরা হিমশিম খাচ্ছেন।

চলতি বছর অ্যারাবিকা কফির দাম বেড়েছে ৮০ শতাংশ। গবেষক ও বিশ্লেষকরা এখনো ব্রাজিলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখন পর্যন্ত তারা যে প্রতিবেদন বা তথ্য দিয়েছেন তা সুখকর নয়। এর মধ্যেই বিশ্বের সব প্রান্তে কফি বিন সরবরাহে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে শুধু অ্যারাবিকারই নয়, চলতি বছর দাম বেড়েছে রোবাস্তারও। তবে বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল রোবাস্তার বাজার। এটির দাম অ্যারাবিকার অর্ধেকেরও কম হওয়ায় রোস্টাররা তাদের পণ্যে রোবাস্তা ব্যবহার বাড়িয়েছেন।

ভিয়েতনাম বিশ্বের শীর্ষ রোবাস্তা উৎপাদক। চলতি বছর দেশটিতে দ্বিতীয়বারের মতো রোবাস্তার উচ্চফলন হয়েছে। তবে কনটেইনার সংকট, অতিরিক্ত চার্জসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে রফতানি। তার ওপর মহামারীর প্রভাব তো রয়েছেই। তবে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, কিছু সমস্যা থাকলেও ধীরে ধীরে অ্যারাবিকার শূন্যতা পূরণ করতে সক্ষম হবে রোবাস্তা। যদিও শ্রমিক ও জ্বালানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি চ্যালেঞ্জকে দীর্ঘমেয়াদি করে তুলবে বলে মনে করছেন তারা। —দ্য ব্যাংকক পোস্ট




  এ বিভাগের অন্যান্য