www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

ক্ষতির মুখে ঝালকাঠির সাপের খামার


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২৫ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১০:১০   কৃষি গবেষণা বিভাগ


২০১৬ সাল থেকে ঝালকাঠিতে বানিজ্যিকভাবে সাপের খামার গড়ে উঠতে শুরু করেছিল। সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে এ খামার প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী হয়ে উঠেছিল জেলার রাজাপুর ও নলছিটি উপজেলার অনেকেই। বিষধর সাপ থেকে বিষ সংগ্রহ এবং সেই বিষ বিক্রি ও রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা এসব খামার এখনো সরকারি অনুমোদন পায়নি। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এ ব্যবসায় জড়িতরা।

সরকারি নিয়ম মেনেই সাপের খামার করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল ঝালকাঠির তরুণ উদ্যোক্তারা। প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র জমা দিয়েও প্রাণী সম্পদ বিভাগ থেকে আজ পর্যন্ত তার কোন সুরহা না হওয়ায় এখন এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন খামারিরা।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাপের খামারি মো. সালাহউদ্দিন মৃধা জানান, তিনি পেশায় একজন ওয়ার্কসপ মেকানিক। হঠাৎ করেই তার মাথায় বানিজ্যিক ভাবে সাপের খামার গড়ে তোলার খেয়াল আসে। এরপর পটুয়াখালীর সর্পচাষী রাজ্জাক বিশ্বাসের কাছ থেকে সাপ চাষের কলাকৌশল শেখেন তিনি। ২০১৬ সালে ৫টি গোখরা সাপ নিয়ে শুরু করেন সাপের খামার। বর্তমানে সালাহউদ্দিনের খামারে ৩০টি সাপ রয়েছে। তবে এখন সাপের খাবারসহ নানা রকমের আর্থিক খরচ জোগাতে হিমিশিমি খেতে হচ্ছে তাকে।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘যদি সরকার সাপের খামার করার অনুমোদন দেয় তাহলে আমরা এ ব্যাবসা থেকে লাভবান হবো। একটি খামারে পরিচালনা করতে কমপক্ষে ৫ জন লোকের দরকার হয়। এছাড়াও সাপকে মুরগির বাচ্চা, ডিমসহ নানা ধরনের খাবার দিতে হয়। যা অনেক ব্যয় বহুল।’

নলছিটি উপজেলার তৌকাঠি গ্রামের খামারি খায়রুল ইসলাম জিয়াদ জানান, তিনি দুইজন অংশিদার নিয়ে ২০১৭ সালে গড়ে তোলেন সাপের খামার। জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন মূল্যবান ওষুধ তৈরিতে সাপের বিষের প্রয়োজন হয়। এ বিষ আমদানি করতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়। দেশে সাপের বিশ উৎপাদন করা গেলে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে অন্যদিকে বিষ রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক অর্থ অর্জন করাও সম্ভব হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সম্ভাবনার কথা চিন্তা করেই সাপের খামার করেছি, তবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আইন অনুযায়ী এ ধরনের খামার করতে সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন হয়। আমরা অনুমোদনের জন্য আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত অনুমোদন না পাওয়ায় অনেক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া পারিবারিকভাবেও অনেক কথা শুনতে হয় তাই হয়তো এ পথ ছেড়ে অন্য কিছু করবো।’

ঝালকাঠি জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, ‘আমি নলছিটি থেকে একটি সাপের খামারের অনুমোদনের জন্য আবেদন পেয়েছি। সাপের অন্য খামারগুলোর ব্যাপারে আমার উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন এ ধরনের খামারের জন্য আমরা এখনও রেজিস্ট্রেশন দেয়া শুরু করিনি। তবে যদি কেউ সাপের খামার করতে চায় তাহলে তাদের প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে এসে যোগাযোগ করতে হবে। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।‘




  এ বিভাগের অন্যান্য