www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

মাঠে মাঠে সোনালী ধানের হাসিতে হাসছে মৌলভীবাজার


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২৫ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১০:২৮   সমকালীন কৃষি  বিভাগ


মৌলভীবাজারের যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই নজরকাড়া ফসলের মাঠ। মাঠগুলোতে হাসছে সোনালি রঙের ধান। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে পাকা ধানের চিরায়ত ঘ্রাণ। বৃষ্টির অভাবজনিত কারণে কিছু ধানের খেতে পাতা হলুদ হওয়া ছাড়া তেমন কোনো দুর্যোগে পড়েনি এ বছরের আমন ফসল। ফসলও ভালো হয়েছে। ভালো ফসলের হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখেও। এরই মধ্যে কাস্তে নিয়ে কৃষকেরা ধান কাটতে মাঠে নামতে শুরু করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মৌলভীবাজার জেলায় ১ লাখ ১ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আমন ফসল আবাদ হয়েছে। এবার সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে ব্রি ধান-৪৯ জাতের। আবাদ করা আমনের প্রায় ৪০ শতাংশ এই জাতের। অন্য জাতের মধ্যে আছে ব্রি ধান-৮৭ ও ৭৫, বিনা ধান-১৭ ও বিআর-২২।

সম্প্রতি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের খিদুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকেরা পাকা ধান কাটছেন। তবে মাঝে মাঝে কিছু জমিতে এখনো সবুজের ছোপ। সপ্তাহখানেকের মধ্যে এসব খেতের ধানও পেকে যাবে।
খিদুর মাঠের কৃষক সদর উপজেলার রংদাসের মনির মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধান মোটামুটি ভালো অইছে। আমি ২২ কিয়ারের (বিঘা) মতো চাষ করছি। কত খরচ অইছে হিসাব করছি না। তবে কিয়ারে তিন-চাইর (চার) হাজার গেছে। ধানের অখন (এখন) দাম কিছু আছে।’

সদর উপজেলার খাইনজার হাওর, জগন্নাথপুর, একাটুনা, কচুয়া, বড়কাপন, বুড়িকোনা, বাহারমর্দান, বিরইমাবাদ, বরমান, আখাইলকুরা, মীরপুর, জগৎপুর; রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর, পাঁচগাঁও, মুন্সীবাজার, রাজনগর, কামারচাক ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, যেদিকে চোখ যায়, পাকা ধানের হাসি। পাকা ধানের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে বাতাসে। গ্রামে গ্রামে ধান তোলার উৎসবের আমেজ। আগাম রোপণ করা প্রায় সব ধানই পেকে গেছে। শুধু হাওরাঞ্চল ও আউশের জমিতে রোপণ করা আমন ধান পাকতে আরও সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে।

কামারচাক ইউনিয়নের হাওর করাইয়া এলাকার কৃষকেরা বলছেন, হাওরের দিকে কিছুটা দেরিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। এই ধান এখনো পাকেনি। আরও কিছুদিন লাগবে। তবে হাওরের উজানের দিকে মানুষ ধান কাটছেন। এবার বড় কোনো দুর্যোগে পড়তে হয়নি কৃষকদের। ফলন ভালো হয়েছে। এখন সব মাঠেই কমবেশি কিছু ধান কাটা চলছে। তবে ধান কাটা শ্রমিকের সংকট আছে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুরা ইউনিয়নের রসুলপুরের মুহিব খান বলেন, ‘ধান কাটার মানুষের সংকট। এক কিয়ার (বিঘা) ধান কাটতে ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা চাইছে। এটা বেশি। ধানের দাম কিছুটা আছে। এটা থাকলে ভালো।’

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সারা জেলায় প্রণোদনার অর্থে দেওয়া ৫৭টি ধান কাটার যন্ত্র আছে। কৃষি বিভাগ প্রতি বিঘা জমির ধান কাটার জন্য দেড় হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কৃষকেরা যন্ত্র দিয়ে ধান কাটলে, তাঁদের অনেক টাকা সাশ্রয় হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপপরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন, ‘এবার ফলন খুবই ভালো হয়েছে। কিছু ধানের পাতা হলুদ হয়েছিল। শেষ দিকে বৃষ্টি হওয়ায় তা সামাল দেওয়া গেছে। ফলনে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। মোটামুটি ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। রাজনগরে ৯০ শতাংশ ধান পেকে গেছে। কিছু শ্রমিক সংকট হতে পারে। ধান কাটার যন্ত্র আছে। কিন্তু বেশির ভাগ কৃষকই শ্রমিক দিয়ে কাটাতে চান।’




  এ বিভাগের অন্যান্য